ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এসব হিসাবে জমা সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ মামলার তদন্ত সংস্থা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। সিআইডির পক্ষে আবেদন করেন উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল লতিফ।

আবেদনে বলা হয়, পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানে ফয়সাল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে উল্লেখযোগ্য সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে খুন, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, সন্ত্রাসে অর্থায়ন এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য।

সিআইডি জানায়, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর ১৪ ধারায় হিসাব অবরুদ্ধ এবং ১৭(২) ধারায় স্থিত অর্থ বাজেয়াপ্ত করা জরুরি। অন্যথায় মামলা নিষ্পত্তির আগেই অর্থ বেহাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে ৫৩টি হিসাব অবরুদ্ধ এবং সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শরীফ ওসমান হাদি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং পরে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। হত্যাকাণ্ডের পর ডিবি তদন্ত করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে, যার মধ্যে ফয়সাল প্রধান আসামি। সে ভারতে পলাতক রয়েছে। এখন সিআইডির মানি লন্ডারিং অনুসন্ধানে তার আর্থিক লেনদেনের জাল উন্মোচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *