রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিভিচ খোজিন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডোর স্থাপন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রদূত খোজিন বাংলাদেশের নির্বাচন কবে এবং কত দ্রুত অনুষ্ঠিত হবে তা জানতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন কত তাড়াতাড়ি হতে যাচ্ছে, তারা জানতে চাচ্ছেন। সবাই একটা নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায়, কারণ এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়। শুধু রাশিয়া নয়, সব বিদেশি রাষ্ট্রই একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য অপেক্ষা করছে।”
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, রাশিয়া এই প্রকল্পের সমাপ্তির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চায়। তবে, তিনি উল্লেখ করেন, প্রকল্পটি নিয়ে কিছু প্রশ্নবিদ্ধ বিষয় রয়েছে, যা ভিন্ন আলোচনার বিষয়। তিনি আরও বলেন, “এটি একটি বড় বিনিয়োগের প্রকল্প, এবং এটি সম্পন্ন করতে হবে।”
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আমীর খসরু জানান, রাশিয়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে আগ্রহী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শক্তি, এবং সংস্কৃতির ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।” তিনি ব্যাংক লেনদেনের জটিলতা এবং বাজারে প্রবেশের প্রতিবন্ধকতা দূর করার বিষয়েও রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডোর স্থাপনের বিষয়টিও উঠে আসে। আমীর খসরু বলেন, “এটি নিয়ে সবার উদ্বেগ রয়েছে, এবং আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করেছি।” তিনি আরও জানান, অঞ্চলের স্থিতিশীলতা সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশসহ পুরো অঞ্চলের জন্য ক্ষতিকর হবে।
বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি নেতৃবৃন্দ রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ধারাবাহিকতার উপর জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে সহযোগিতা আরও গভীর হবে।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































