জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) বুধবার সাক্ষ্য হিসেবে তার ৪টি ফোনকল রেকর্ড বাজানো হয়। এসব কথোপকথনে আন্দোলন দমনে ড্রোনের মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয়, ছত্রীসেনা ব্যবহার করে হেলিকপ্টার থেকে বোম্বিং ও গুলিবর্ষণসহ লেথাল উইপন (প্রাণঘাতী অস্ত্র) ব্যবহারের নির্দেশের কথা উঠে এসেছে। এই মামলায় শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে।
বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিং অফিসার ও প্রসিকিউটর তানভীর জোহা ৫২তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। তার সাক্ষ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। তিনি বলেন, মামলার তদন্তে বিটিআরসি, এনটিএমসি, ডিএমপি সহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর থেকে অডিও ক্লিপ, ভিডিও ফুটেজ, সিডিআর, আইপিটিআর, সিসি ক্যামেরা ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে শেখ হাসিনার ৬৯টি কথোপকথনের রেকর্ড রয়েছে, যাতে আন্দোলন দমনে তার পরিকল্পনা ও নির্দেশনা স্পষ্ট।
এসব ফোনকলে শেখ হাসিনা ঢাকা দক্ষিণ সিটির তৎকালীন মেয়র ফজলে নুর তাপস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি মাকসুদ কামাল এবং জাসদের সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে কথা বলেন। কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের তালিকাভুক্ত করে গ্রেপ্তার, রাজাকার ট্যাগ দিয়ে ফাঁসি বা হত্যা, জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে প্রপাগান্ডা, ইন্টারনেট বন্ধ, সরকারি স্থাপনায় আগুন লাগিয়ে দায় চাপানোসহ সব পরিকল্পনা উঠে আসে। স্পষ্টভাবে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে আন্দোলনকারীদের পাওয়া গেলেই গুলি করার কথা বলা হয়।
তানভীর জোহা জানান, এই রেকর্ডগুলোতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি হত্যা ও গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে তাকে জেরা করবেন আসামি পক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমীর হোসেন। আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আগে বলেছেন, এমন কল রেকর্ডগুলো ‘ট্রেলার মাত্র’, আরও প্রমাণ বাকি। বিবিসির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও শেখ হাসিনার গুলির নির্দেশের যাচাইকৃত অডিও প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসিনা ও কামালের নির্দেশে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়: নাহিদ ইসলাম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে উদ্ভূত এই ঘটনায় শত শত মানুষ নিহত হয়। সরকার পতনের পর পুনর্গঠিত আইসিটিতে এমন একাধিক মামলা চলছে, যাতে শেখ হাসিনাকে প্রধান মাস্টারমাইন্ড ও হুকুমদাতা হিসেবে অভিযোগ করা হয়েছে।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































