আহসান এইচ মনসুর-newsedge24

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই মুহূর্তে বিনিয়োগের প্রত্যাশা করা ‘কাল্পনিক’। রবিবার (১০ আগস্ট ২০২৫) রাজধানীতে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩৬৫ দিন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “আর্থিক খাতে কেবল স্থিতিশীলতা এসেছে। রাজনৈতিক খাতে তো এখনো স্থিতিশীলতা আসেনি। নিরাপত্তা পরিস্থিতিও এখনো অস্থিতিশীল। সবকিছু মিলিয়ে এই মুহূর্তে কেউ বিনিয়োগে ঝাঁপিয়ে পড়বে, এমন প্রত্যাশা যদি কারও থাকে, আমি বলব সেটা কাল্পনিক। আমাকে বাস্তবসম্মত হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা পাইপলাইনে বিনিয়োগ দেখতে পাচ্ছি। এর ইতিবাচক লক্ষণও রয়েছে। কিন্তু আরেকটু সময় লাগবে। সামনে নির্বাচন, এই মুহূর্তে বড় কোনো বিনিয়োগকারী হয়তো আসতে চাইবে না। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও আসতে চাইবে না, কারণ পরবর্তী সরকার যদি সবকিছু পাল্টে দেয়। তারা বলছে, ‘আমরা পরবর্তী সরকারের সঙ্গে কথা বলব’। এটা একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।”

গভর্নর উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ প্রতি মাসে ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করছে, তবে এতে কোনো পণ্যের ঘাটতি বা বাজারে সংকট দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “হয়তো বলতে পারেন, আমরা ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি করছি না। এটা একটা বৈধ প্রশ্ন। কিন্তু উত্তর হলো, এই পরিবেশে কে বিনিয়োগ করবে? আমরা খাদের কিনারায় ছিলাম। সেখান থেকে দ্রুত ফিরে না আসতে পারলে খাদে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।”

সামষ্টিক অর্থনীতি ও সংস্কার

আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল: সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং সংস্কার এজেন্ডাকে এগিয়ে নেওয়া। তিনি বলেন, “যাতে ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক, তারা এই সংস্কারকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এবং আর্থিক খাতকে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা এই প্রক্রিয়ার শুরুটা করে দিতে পারি, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের রপ্তানি ও বিনিয়োগে নুতন সম্ভাবনা

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত এক বছরে বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতা বিনিয়োগের পথে প্রধান বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

সিপিডির ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩৬৫ দিন’ শীর্ষক সেমিনারটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এই সময়ে দেশ রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই সময়ে মুদ্রানীতি সংস্কার, ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা এবং রিজার্ভ পুনর্গঠনের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বিদেশি বিনিয়োগ এবং শিল্প উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *