পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন দেশের বৃহত্তম প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো সফলভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার ৩৪ মিনিটে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটানো হয়। এখন পর্যন্ত সব প্যারামিটার চাহিদা অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রায় রয়েছে। বিকিরণের মাত্রা নিয়ে কোনো উদ্বেগের কারণ নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিল। এই কেন্দ্রের চুল্লি তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ মডেলের, যেখানে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরের শেষদিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সংস্থা আইএইএ-এর নির্দেশিকা অনুসরণ করে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের স্টেজ ‘বি ওয়ান’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে।
সবশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কেটে গেছে। এর পরের ধাপ হলো ‘বি টু’। এ ধাপে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পারমাণবিক চুল্লিকে প্রস্তুত করা হয়। এরপর শুরু হয় ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়। এটি এমন একটি পর্যায়, যেখানে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হয়।
আরও পড়ুন: জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের কাজ চলছে: নৌপরিবহনমন্ত্রী
এর মাধ্যমে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীল ও নিরাপদভাবে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। ধাপে ধাপে এগিয়ে ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন ক্ষমতায় পৌঁছালে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। প্রথম ইউনিটে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় প্রকল্পটি এখন বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা মানদণ্ড বজায় রেখে ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়ায় প্রকল্পের ওপর আস্থা আরও বাড়ছে।
সচিব আনোয়ার হোসেন আরও জানান, বর্তমানে সব প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সূচক স্বাভাবিক রয়েছে। চুল্লির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের যৌথ তত্ত্বাবধানে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন প্রকল্পে সহায়তার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে রূপপুরের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হবে। প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে তা দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও সমান্তরালে এগিয়ে চলছে।
আইএইএ-এর গাইডলাইন অনুসরণ করে প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। স্টেজ বি ওয়ান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এখন বি টু ধাপের প্রস্তুতি চলছে। ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর চুল্লি ধীরে ধীরে পূর্ণ ক্ষমতায় পৌঁছাবে। এ প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।





















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































