ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সম্মুখ যোদ্ধা শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে সংঘটিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হত্যার মূল নির্দেশদাতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মিরপুর পল্লবী থানা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীকে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “শরীফ ওসমান হাদি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কার্যকলাপের জোরালো সমালোচনা করতেন। এতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়। হত্যাকারী ফয়সাল করিম মাসুদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বাপ্পী যুবলীগের নেতা। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হত্যা।”

সার্বিক তদন্ত, স্বীকারোক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং মোবাইল-ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জন গ্রেফতার হয়েছেন। পলাতক রয়েছেন ৫ জন—মূল শ্যুটার ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেলচালক আলমগীর শেখ, পলায়ন সহায়তাকারী মানবপাচারকারী ফিলিপ স্নাল, নির্দেশদাতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী এবং ফয়সালের বোন জেসমিন।

শফিকুল ইসলাম জানান, ফয়সালের সেই ভাইরাল ভিডিও বার্তা সত্য, তবে তিনি দুবাই নন, ভারতে অবস্থান করছেন। চার্জ গঠনের পর পলাতক আসামিদের হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা রাষ্ট্রীয় অন্য সংস্থা বা ডিবি সম্পন্ন করবে। তদন্তে এখন পর্যন্ত বাপ্পীকেই মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা হিসেবে পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে নতুন কোনো তথ্য-প্রমাণ পেলে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শরীফ ওসমান হাদি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং পরবর্তীতে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। তাঁর হত্যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *