প্রধান উপদেষ্টা-প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস-newsedge24-newsedge24

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বৃহৎ পরিসরে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য শ্রম খাতে সংস্কার অপরিহার্য। তিনি ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের নৈশভোজে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে শ্রম আইন, শ্রমিকের অধিকার ও চলমান সংস্কার নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন কূটনীতিক, জাতিসংঘ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা শ্রম খাত সংস্কার অব্যাহত রাখার প্রতি ঐকমত্য প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আইএলও মহাপরিচালক ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শ্রম সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির উন্নতির সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান স্তম্ভ। ভবিষ্যৎ সরকার যেই হোক, এই খাতের প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, তাদের দলের অনেক নেতার পোশাক শিল্পে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা খাতটিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় শক্তিশালী করতে মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। তিনি সরকারের সংস্কার পদক্ষেপকে সমর্থন জানান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর বলেন, বর্তমান সংস্কার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা ডা. তাসনিম জারা রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় আহতদের সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “সেই ঘটনা আমার রাজনৈতিক চিন্তাধারা গড়ে দিয়েছে।” তিনি শ্রম নিরাপত্তার মানবিক দিক ও সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সমাপনী বক্তব্যে ড. ইউনূস শ্রম খাত সংস্কারকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও শ্রমিক কল্যাণে অপরিহার্য উল্লেখ করে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *