বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নিউ ইয়র্কে এক মতবিনিময় সভায় ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, অর্থপাচার রোধ এবং ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে (ভবিষ্যৎ) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, কমিউনিটি নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “গত কয়েক মাসে ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও অতীত সরকারের অযাচিত হস্তক্ষেপ ও লুটপাটের কারণে ক্ষতি পূরণে সময় লাগবে।” তিনি ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনার ঘোষণা দিয়ে বলেন, “শেয়ার থাকলেই পরিবারের সদস্যদের পরিচালনা পর্ষদে যুক্ত করার প্রথা বন্ধ হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন করছে।”

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সরকারের সঙ্গে অর্থপাচার রোধে সমন্বিত প্রচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে গভর্নর প্রবাসীদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। রিজার্ভ হ্যাকিং মামলায় ফেডারেল রিজার্ভ ও বাংলাদেশ একসাথে কাজ করছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

গভর্নর জানান, ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের জন্য শিগগির নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে। তিনি “নগদ”-কে রাজনৈতিক বিবেচনায় লাইসেন্স দেয়ার সমালোচনা করে বলেন, “বর্তমানে নগদ সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংক তদারকি করবে।”

ভারতের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে গভর্নর নতুন নোট ছাপানোর প্রক্রিয়াকে জটিল ও সময়সাপেক্ষ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “এতে ১৮ মাস থেকে ২ বছর লাগতে পারে। রাজনৈতিক চাপে এমন সিদ্ধান্ত নিলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে গভর্নর আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।

সভার শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণের জন্য প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানানো হয়। কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হুদা ও ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমানের উপস্থিতিতে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *