জয়শঙ্কর-শেখ হাসিনা-newsedge24

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে আসা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লিতে অবস্থানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাকেই। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানী নয়াদিল্লিতে এইচটি লিডারশিপ সামিটে এনডিটিভির সিইও ও এডিটর ইন চিফ রাহুল কানওয়ালের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এটা তো ভিন্ন বিষয়, তাই না? তিনি একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এখানে এসেছেন এবং আমার মনে হয় সেই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবেই এখন তার ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত তাকেই নিতে হবে।”

প্রশ্ন করা হয়েছিল, শেখ হাসিনা কি যতদিন খুশি ভারতে অবস্থান করতে পারবেন? জয়শঙ্করের এই উত্তরে বোঝা যায়, ভারত সরকার তার অবস্থানকে তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে, যা গত বছরের আগস্টে জুলাই অভ্যুত্থানের পরিস্থিতিতে প্রভাবিত।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে আশাবাদ

এইচটি লিডারশিপ সামিটে নয়াদিল্লি-ঢাকার সম্পর্ক নিয়েও কথা বলে জয়শঙ্কর বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “আমরা যা শুনেছি তা হলো, বাংলাদেশে, বিশেষ করে যারা এখন ক্ষমতায়, তাদের আগের নির্বাচনগুলো কীভাবে হয়েছে; সে বিষয়ে আপত্তি ছিল। এখন, যদি সমস্যাটি নির্বাচন নিয়ে হয়, তাহলে প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা।”

ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমাদের দৃষ্টিতে, আমরা বাংলাদেশের মঙ্গলই চাই। একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে আমরা দেখতে চাই, বাংলাদেশে জনগণের ইচ্ছা যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। আমি বেশ আশাবাদী, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া থেকে যে সরকারই আসুক না কেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে তাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও পরিপক্ক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে এবং আশা করি পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”

আরও পড়ুন: হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের ইতিবাচক সাড়া নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

গত নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, যা তার ভারতে অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলেছে। বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে তার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে, কিন্তু ভারত এখনো কোনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *