ফারুক আহমেদ-আমিনুল ইসলাম বুলবুল-newsedge24

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবে ফারুক আহমেদের মনোনয়ন বাতিল এবং আমিনুল ইসলামকে পরিচালক মনোনীত করার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। মঙ্গলবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে বলে বিসিবির আইনজীবী ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম জানিয়েছেন।

আদালতে ফারুক আহমেদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, এবং বিসিবির পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম। ফারুকের আইনজীবী আজাদ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, ফারুক আহমেদের অপসারণ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারি করা হয়েছে। তিনি আশাবাদী যে, চূড়ান্ত শুনানিতে ফারুক আহমেদ তার পদ ফিরে পাবেন।

গত ৩০ মে ফারুক আহমেদ বিসিবির সভাপতি পদে পুনর্বহালের জন্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। তবে, ২ জুন বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার বেঞ্চ এই রিট কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। রিটে বলা হয়, ২৯ ও ৩০ মে এনএসসি’র নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারির অনুরোধ করা হয়। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তগুলো বিচারাধীন থাকা পর্যন্ত স্থগিত রাখার আবেদনও করা হয়। বিবাদী হিসেবে যুব ও ক্রীড়া সচিবসহ মোট পাঁচজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এর আগে, ২৯ মে রাতে এনএসসি ফারুক আহমেদের পরিচালক পদের মনোনয়ন বাতিল করে এবং ৩০ মে আমিনুল ইসলামকে পরিচালক মনোনীত করে। একই দিন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ আমিনুল ইসলামকে সভাপতি নির্বাচিত করে। ফারুকের বিরুদ্ধে আটজন পরিচালকের অনাস্থা প্রস্তাব এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে এনএসসি এই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে, ফারুক আহমেদ দাবি করেন, তাকে কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই অপসারণ করা হয়েছে এবং তিনি পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানান।

হাইকোর্টের এই রুল জারির ফলে বিসিবির নেতৃত্ব নিয়ে আইনি লড়াই আরও জটিল হলো। ফারুকের আইনজীবীরা দাবি করছেন, এনএসসি’র সিদ্ধান্ত বিসিবির সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং আইনগত কর্তৃত্বের অপব্যবহার। বিপরীতে, বিসিবি ও এনএসসি’র পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সিদ্ধান্তটি পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক কারণে নয়। চূড়ান্ত শুনানি পর্যন্ত আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বোর্ড কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *