শরিফুল ইসলাম-010108-NewsEdge24

মিচেল স্টার্ক এবং শরিফুল ইসলাম এই দুই পেসারের গতিতে ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনই ১৮ উইকেটের পতন হলো। বাংলাদেশ ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান করেছে। অজিরা ১০১ রানের লিড নিয়েছে।

মিচেল স্টার্ক ও শরীফুল ইসলাম দুজনেই ছয়টি করে উইকেট নিয়েছেন। তবে ক্যামেরন গ্রিনের ধৈর্যশীল অর্ধশতকে ভর করে লিড নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নাথান লায়ন ১০ রানে অপরাজিত ছিলেন, তাঁর সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন গ্রিন ৫১ রানে।

ডারউইন টেস্টে নতুন বল হাতে শুরুতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলেও ম্যাকাইয়ে মাত্র ৪০ মিনিটেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন স্টার্ক। মাত্র ২২ বলে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের অর্ধেক উইকেট তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১২ রানে ছয় উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার।

গত বছর জ্যামাইকায় মাত্র ১৫ বলে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর ম্যাকাইয়ে ২২ বলে পাঁচ উইকেট নিয়ে টেস্ট ইতিহাসের দ্রুততম পাঁচ উইকেটের পাঁচটি কীর্তির দুটিই এখন স্টার্কের দখলে। একই সঙ্গে ডেল স্টেইনের ৪৩৯ উইকেটের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। টেস্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিদের তালিকায় এখন তাঁর অবস্থান সেরা দশে।

তবে বাংলাদেশের বিপর্যয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদেরও স্বস্তিতে থাকতে দেননি শরিফুল ইসলাম। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে না পারা শরিফুল ফিরেই দুর্দান্ত বোলিং করেন। দিনের শেষ ঘণ্টায় মাত্র পাঁচ বলের মধ্যে তিনটি উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।

এর আগে নিজের প্রথম ওভারেই ট্রাভিস হেড ও মার্নাস লাবুশেনকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৩ উইকেটে ৪১ রানে পরিণত করেন শরিফুল। হেডকে আবারও নিজের বলে বোল্ড করেন তিনি। এই সিরিজে হেডের বিপক্ষে এটি শরিফুলের তৃতীয় সাফল্য।

তবে ক্যামেরন গ্রিনের দুর্দান্ত ব্যাটিং অস্ট্রেলিয়াকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করে। একের পর এক শক্তিশালী পুল শটে গ্রিনকে দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন উইকেটে ব্যাট করছেন। দিনের শেষ আলোয় অর্ধশতক পূর্ণ করেন প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি করা এই অলরাউন্ডার। দিন শেষে ৫১ রানে অপরাজিত থেকে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে ১৬৫ রানে নিয়ে যান তিনি।

বাংলাদেশের ৬৪ রানের সংগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতের ২০২০ সালের অ্যাডিলেড টেস্টে ৩৬ রানে অলআউট হওয়ার পর সবচেয়ে কম দলীয় সংগ্রহ। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররাও অবশ্য স্বস্তিতে ছিলেন না। ট্রাভিস হেডের টানা তৃতীয়বার নিজের স্টাম্পে বল লাগিয়ে আউট হওয়া, লাবুশেনের ব্যর্থতা এবং অ্যালেক্স ক্যারির হতাশাজনক বিদায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসেও চাপের চিত্র তুলে ধরে।

তারপরও দিনের শেষে ১০১ রানের ঘাটতিতে থাকায় বাংলাদেশের সামনে চারটি লাল বলের ম্যাচে তৃতীয়বার ইনিংস ব্যবধানে হারের আশঙ্কা জোরালো হয়েছে।

ঘাসে ঢাকা পিচে নতুন বলে স্টার্কের ভয়ংকর দেরিতে বাঁক পাওয়া বল বাংলাদেশের শীর্ষ ছয় ব্যাটারের পাঁচজনকেই বিপদে ফেলে। শাদমান ইসলামকে প্রথম ওভারেই গালিতে গ্রিনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার তালিকায় নিজের চতুর্থ সাফল্য যোগ করেন স্টার্ক।

পরের ওভারেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ তৈরি করেন তিনি। তানজিদ হাসান ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত পরপর দুই বলে ফিরে যান। তানজিদের সিরিজে এখন রানসংখ্যা ১০১, ০ ও ০।

আরও পড়ুন: তানজিদ-হাসান মাহমুদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ অজি কিংবদন্তিরা

লিটন দাসের ক্যাচ ওয়েবস্টার ফেলে না দিলে আরও দ্রুত পাঁচ উইকেট পেতে পারতেন স্টার্ক। তবে পরের বলেই লিটনকে পায়ের আগে ব্যাটসম্যানের প্যাডে আঘাতের ফাঁদে ফেলে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও দুর্দান্ত বোলিং করেন। ১০ ওভারে ২৫ রানে তিন উইকেট নেন তিনি। তার বুদ্ধিদীপ্ত অধিনায়কত্বও ছিল চোখে পড়ার মতো।

বাংলাদেশ নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের ইনিংসকেও ছাড়িয়ে যেতে না পারার আশঙ্কায় ছিল। শেষ পর্যন্ত শরিফুলের ১৪ রানের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে সেই লজ্জা থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। টেস্ট ইতিহাসে ১১ নম্বর ব্যাটারের দলের সর্বোচ্চ রান করার ঘটনা এটি মাত্র ১৩তমবার।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে তিন বছর পর প্রথম টেস্ট ইনিংস খেলতে নামা ম্যাথু রেনশও শুরুতে ব্যস্ত ছিলেন। তবে তাসকিন আহমেদের বলে লেগ সাইডে টানা তৃতীয়বার খেলার চেষ্টা করতে গিয়ে তৃতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি।

এরপর বাংলাদেশের হয়ে পাল্টা আঘাত হানেন শরীফুল। অস্ট্রেলিয়া যখন ৭৭ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে, তখন স্টিভ স্মিথ নিজের স্টাম্পে আসা বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন। পায়ের আগে ব্যাটসম্যানের প্যাডে আউটের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেও রক্ষা পাননি তিনি।

আরও পড়ুন: ম্যাকাই টেস্টে ৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ

প্রথম টেস্টে মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিংয়ে চাপে থাকা অ্যালেক্স ক্যারি এবার অফ স্পিনারের বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে বোকা বনে যান। বলের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে আকাশে সহজ ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

এরপর অস্ট্রেলিয়ার নিচের সারির ব্যাটারদের ওপরও চেপে বসেন শরিফুল। দিনের শেষে প্যাট কামিন্স ও স্টার্কের উইকেটও তুলে নেন তিনি। ফলে দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের কোনো পেসারের এটাই সেরা বোলিং পরিসংখ্যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *