নাজমুল হোসেন শান্ত-shanto-newsedge24

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিক জয়কে যেকোনো সংস্করণে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয় বলে অভিহিত করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশ নিজেদের মাটিতে বিশ্বসেরা অস্ট্রেলিয়াকে সব বিভাগে হতবাক করে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি ছিল বাংলাদেশের মাত্র তৃতীয় টেস্ট। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে শান্ত বলেন, ‘এটি এখন পর্যন্ত যেকোনো সংস্করণে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। সামনে আমরা আরও বিশেষ কিছু করব। নিজের জন্য এবং ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, তাতে আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি এবং জয় পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

বিশেষ করে বাংলাদেশের পেসারদের প্রশংসা করেছেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের তিন পেসারই অস্ট্রেলিয়ার ১০টি উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেন। দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের পাঁচ উইকেটের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রানে অলআউট হয়। ফলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান।

শান্ত বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো পেস বোলারদের উত্থান। সাধারণত পাঁচ-ছয় বছর আগে আমাদের পেসাররা টেস্ট খেলতে চাইত না, কারণ আমরা পর্যাপ্ত টেস্ট খেলতাম না। কিন্তু গত দুই-তিন বছরে আমরা অনেক টেস্ট খেলছি এবং ছেলেরা এখন টেস্ট ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা এখন খেলতে চায়, পারফর্ম করতে চায়, কারণ তারা বিশ্বমানের হতে চায়। এখন তাদের মানসিকতাই এমন। বিশেষ করে মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা তাদের অনেক সাহায্য করেছেন এবং আরও বেশি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে উৎসাহ দিয়েছেন।’

বাংলাদেশের স্মরণীয় এই জয়ের ভিত গড়ে দেন উদ্বোধনী ব্যাটার তানজিদ হাসান। প্রথম ইনিংসে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে তিনি বাংলাদেশকে ৪২৬ রানের সংগ্রহ এনে দেন। এতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২২৮ রান। তানজিদের এটি ছিল মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট। ২৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার চলতি বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্ট অভিষেক করেন।

তানজিদের প্রশংসা করে শান্ত বলেন, ‘সে দারুণ সম্ভাবনাময়। সাদা বলের ক্রিকেটে সে সবসময় আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে। কিন্তু এই টেস্টে সে নিজের চরিত্র দেখিয়েছে। খুব শান্ত ছিল এবং বলের গুণাগুণ বুঝে খেলেছে। আমরা সবাই জানি, টেস্ট ক্রিকেট খেলার সামর্থ্য তার আছে। দলের জন্য একজন উদ্বোধনী ব্যাটারের কাছ থেকে আমরা এমন প্রভাবশালী পারফরম্যান্সই চাই এবং এই ম্যাচে সে সেটি করে দেখিয়েছে।’

ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটসহ ম্যাচে অসাধারণ বোলিং করেন তিনি।

হাসান বলেন, ‘ম্যাচের আগে প্রতিটি অনুশীলনে আমরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। প্রতিটি অনুশীলন পর্বে আমরা একটি বিষয়েই মনোযোগ দিয়েছি, যা-ই ঘটুক, নিজেদের প্রক্রিয়ার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং ফলাফল নিয়ে ভাবা যাবে না। পাঁচ দিন খেলতে হবে, এরপর ফলাফল আসবে।’

আরও পড়ুন: ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বোলাররা খুব ভালো করেছে। ধৈর্য ধরে নিজেদের পরিকল্পনা অনুসরণ করেছে। সঠিক জায়গায় এবং সঠিক দূরত্বে বল করেছে। আমরা জানতাম, এর ফল একসময় আসবেই।’

ম্যাকেতে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে বাংলাদেশ সিরিজ ২-০ ব্যবধানে শেষ করতে পারবে কি না, জানতে চাইলে শান্ত বলেন, ‘আমাদের সেই বিশ্বাস আছে। তবে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। এই টেস্টের আগেও বলেছিলাম, পাঁচ দিন ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। এবারও একই কথা বলছি। এই টেস্টে আমরা যেভাবে নিজেদের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি, সেভাবেই খেলতে হবে। একেকটি পর্ব ধরে এগোতে হবে। বোলাররা নিজেদের কাজ করেছে, ব্যাটাররাও অবদান রেখেছে। বিশেষ করে নিচের দিকের ব্যাটাররা যেভাবে রান যোগ করেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাকেতে আমাদের এসব বিষয়ই ধরে রাখতে হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *