মাঠে হ্যান্ডশেক করেনি ভারত-পাকিস্তান!

অবশেষে সমস্ত অনিশ্চয়তার মেঘ কাটিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মহারণে মুখোমুখি ভারত ও পাকিস্তান। টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক, তবে ম্যাচ শুরুর আগে দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথাগত হ্যান্ডশেক বা করমর্দন না হওয়া বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের মধ্যস্থতায় ভেস্তে যেতে যাওয়া এই ম্যাচ মাঠে গড়ালেও দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যকার বরফ যে গলেনি, তা মাঠের আবহেই স্পষ্ট।

এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে আলোচিত এই ম্যাচটি নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে পরিমাণ নাটকীয়তা চলেছে, তা ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল। রাজনৈতিক বৈরিতা এবং দ্বিপাক্ষিক টানাপড়েনের জেরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতের বিরুদ্ধে এই ম্যাচটি বয়কট করার ডাক দিয়েছিল। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, আইসিসি এই মহাদৈরথ বাতিলের আশঙ্কা করছিল।

তবে শেষ মুহূর্তে দৃশ্যপটে আসে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটের স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের আবেগের কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তানের মান ভাঙানো সম্ভব হয়। আইসিসির বিশেষ অনুরোধে বাংলাদেশের এই মধ্যস্থতা সফল হলেও, মাঠের লড়াইয়ে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। দুই দলের ক্রিকেটাররা যখন মাঠে নামেন, তখন গ্যালারিতে উত্তেজনার পারদ চড়লেও মাঠের ভেতর ছিল এক জমাটবদ্ধ শীতলতা।

কেন হলো না হ্যান্ডশেক?

ম্যাচ শুরুর আগে সাধারণত দুই দলের অধিনায়ক এবং খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করে সৌজন্য বিনিময় করেন। কিন্তু আজ মেলবোর্নের সবুজ গালিচায় দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। টসের সময় দুই অধিনায়ক রোহিত শর্মা এবং বাবর আজম (কিংবা তৎকালীন অধিনায়ক) দায়সারাভাবে কথা বললেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে হ্যান্ডশেক করার সেই পরিচিত দৃশ্যটি দেখা যায়নি।

সূত্রের খবর, পাকিস্তান দলের পক্ষ থেকে এই ম্যাচে অতিরিক্ত কোনো সৌজন্য না দেখানোর বিষয়ে আগে থেকেই সংকেত দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশের সমর্থনে দাঁড়িয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কিছু সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতেই এই কঠোর অবস্থান বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান আজ বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজে রয়েছে। মেলবোর্নের উইকেটে শুরুর দিকে পেসাররা কিছুটা সুবিধা পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে শুরুতেই চেপে ধরাই শাহীন আফ্রিদিদের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, টস হারলেও ভারত বড় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে মরিয়া।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই যেখানে উত্তেজনার বারুদ, সেখানে আজকের এই নীরব প্রতিবাদ ম্যাচটিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ে কে জিতবে তা সময়ের হাতে থাকলেও, ক্রিকেটের আড়ালে চলে আসা ভূ-রাজনীতি আজ আরও একবার স্পষ্ট হলো। বাংলাদেশের এই মধ্যস্থতা হয়তো ম্যাচটিকে রক্ষা করেছে, কিন্তু দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ফাটল যে আরও গভীর হয়েছে, হ্যান্ডশেক না হওয়া তারই প্রমাণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *