মুষলধারে বৃষ্টি, কাদাপানি আর প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে হাজারো মুসল্লির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় রেওয়াজ অনুযায়ী বন্দুকের ফাঁকা গুলির শব্দে শুরু হয় এই ঐতিহ্যবাহী জামাত।
ঈদের সকাল থেকেই আকাশ ছিল ভারী। থেমে থেমে বৃষ্টি আর কাদায় ভরা মাঠ পেরিয়ে দূরদূরান্ত থেকে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন শোলাকিয়া ঈদগাহে। প্রতিকূল আবহাওয়া যেন কারও ঈদের নামাজ আদায়ের আগ্রহে ভাটা ফেলতে পারেনি। বরং দুর্যোগের মধ্যেও মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করেছে, শোলাকিয়ার সঙ্গে ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও বিশ্বাস।
এবারের জামাতে ইমামতি করেন মুফতি মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নামাজ শেষে তিনি দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সংঘাত, অস্থিরতা ও মানবিক সংকট থেকে মুক্তির জন্যও দোয়া করা হয়।
শোলাকিয়ার ঈদ জামাত বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। প্রায় দুই শতকের ঐতিহ্য বহনকারী এই ঈদগাহে প্রতি বছর লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। যদিও এবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তবু মাঠজুড়ে মুসল্লিদের সারি ছিল চোখে পড়ার মতো।
ঐতিহ্য অনুযায়ী, শোলাকিয়ার ঈদ জামাত শুরুর আগে বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। বহু পুরোনো এই রেওয়াজ এখনও বজায় রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং শোলাকিয়ার ইতিহাসের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
নিরাপত্তার বিষয়েও ছিল বিশেষ প্রস্তুতি। ঈদগাহ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রবেশপথে তল্লাশি, নজরদারি এবং সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
বৃষ্টি ও কাদার কারণে মুসল্লিদের চলাচলে কিছুটা ভোগান্তি দেখা গেলেও অনেকে খালি পায়ে কিংবা কাপড় গুটিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। কারও হাতে ছাতা, কেউবা মাথায় পলিথিন—তবু সবার লক্ষ্য ছিল একটাই, ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ঈদের জামাতে শরিক হওয়া।
শোলাকিয়ার ঈদ জামাত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- এবার অনুষ্ঠিত হলো ঈদুল আজহার ১৯৯তম জামাত
- সকাল ৯টায় বন্দুকের ফাঁকা গুলির মাধ্যমে জামাত শুরু হয়
- ইমামতি করেন মুফতি মাওলানা আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ
- বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও হাজারো মুসল্লির অংশগ্রহণ
- নিরাপত্তায় ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি
ইতিহাসবিদদের মতে, শোলাকিয়ার ঈদ জামাত শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও প্রতীক। বছরের পর বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এখানে এসে একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন, যা জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
বৃষ্টি, কাদা কিংবা দুর্যোগ—কোনো কিছুই শোলাকিয়ার ঐতিহ্যকে থামাতে পারেনি। বরং প্রতিবারের মতো এবারও প্রমাণ হয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতি আর ইতিহাসের টান মানুষকে সব বাধা পেরিয়ে এক কাতারে দাঁড় করাতে পারে।








































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































