বাংলাদেশ গত এক দশকে বিনিয়োগে বাধা দূর করার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে অগ্রগতি সাধন করলেও বিদেশি বিনিয়োগ এখনও কয়েকটি প্রধান সমস্যার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘২০২৫ বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট স্টেটমেন্ট’ শীর্ষক ২৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে এসব কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, সীমিত অর্থায়ন উপকরণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের উপর অন্যায্য করের চাপ এবং দুর্নীতি—এই পাঁচটি প্রধান কারণ বিদেশি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ, যার জনসংখ্যা বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম—প্রায় ১৭ কোটিরও বেশি মানুষ দেশে বাস করে। ভারতের সঙ্গে ২,৫০০ মাইল এবং মিয়ানমারের সঙ্গে ১৫০ মাইল সীমান্তের এই দেশ দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত অবস্থানে অবস্থিত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় প্রশাসন পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে। তবে দৈনন্দিন পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে।
প্রতিবেদনে ইতিবাচক দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনা আমলের দু’টি প্রধান বাধা, বিদেশি ঋণ শোধে বিলম্ব এবং বাংলাদেশ থেকে বিদেশি মুদ্রার পাচার, বন্ধের জন্য কাজ করছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) থেকে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি এবং ১.৪ বিলিয়ন ডলারের রিসাইলেন্স অ্যান্ড সাসটেইন্যাবিলিটি ফ্যাসিলিটির ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের জুনে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য আরও ঋণ পাওয়ার প্রত্যাশা করা হয়েছিল, কিন্তু এপ্রিলে আইএমএফ বাড়তি ঋণ স্থগিত করে।
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের গড় বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৪ শতাংশ। কিন্তু ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তা ৩.৩ শতাংশে নেমে আসবে বলে বিশ্বব্যাংকের অনুমান ছিল। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ছিল ৪.১৮ বিলিয়ন ডলার, আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ কম।
২০২৪ সালে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি এবং উচ্চ আমদানির কারণে বৈদেশিক লেনদেনে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। টাকার মূল্য ২০২২-এর মাঝামাঝিতে ৮৬ টাকা থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ১২৫ টাকায় নেমে গেছে প্রতি ডলারে।
আরও পড়ুন: দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশে পাট পণ্যে প্রাধান্য দিতে হবে
প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু-সংবেদনশীল দেশগুলোর অন্যতম, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার এই বিষয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি রক্ষা এবং শ্রম অধিকার বাস্তবায়ন এখনও অকার্যকর। তবে গত এক দশকে অগ্নি নিরাপত্তা এবং ভবন নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশের বিশাল কর্মশক্তি এবং কৌশলগত অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কোম্পানিকে আকৃষ্ট করেছে।


















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































