হরমুজ প্রণালি-জাহাজে-newsedge24

ইরান হরমুজ প্রণালি খুলতে একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের অপেক্ষায় আছে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই এই নৌপথ চালু হতে পারে। তবে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। কাতারের রাজধানী দোহায় রোববার তৃতীয় দিনের মতো পরোক্ষ আলোচনা চলেছিল।

ইরানের আটকে থাকা ৭৪ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার বেশি সম্পদ ছাড় করার বিষয়ে মধ্যস্থতা করছে কাতার। এর ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূত আনোয়ার গারগাশ জানান, নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি ইরান বা তার কোনো প্রতিবেশীর জন্য মঙ্গলজনক নয়। তারা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছেন বলেও জানান তিনি। শুক্রবার হরমুজ প্রণালির কাছে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি কাতারি এলএনজি ট্যাংকারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তেহরান জাহাজটিকে নিরাপদ চলাচলের ছাড়পত্র দিয়েছিল। এরপরও কাতারের মধ্যস্থতা অব্যাহত রয়েছে।

দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার অভাব দূর করতে কাতার একটি সংক্ষিপ্ত পরিকল্পনায় জোর দিচ্ছে। এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে। এরপর ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং পারমাণবিক আলোচনা শুরু করবে। ইরান এই সময়সীমা সাত দিন থেকে কমিয়ে দুই দিনে আনতে রাজি হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির পথ বেছে নেবে। ওয়াশিংটনের যৌক্তিক আচরণের ওপর ভিত্তি করে ইরান প্রতিরক্ষা এবং কূটনীতি উভয়ের জন্যই প্রস্তুত আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

আরও পড়ুন: ইরানের পারমাণবিক বোমা নিয়ে জল্পনা তীব্র

শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তারা ইরানের বেশিরভাগ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করে দিয়েছেন। তবে এখনও দু-একটি লক্ষ্যবস্তু বাকি আছে। তিনি দাবি করেন, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে যুদ্ধ শুরু করেছিল তা শেষ করার আলোচনা ভালোভাবেই এগোচ্ছে। যদিও তার মতে ইরান খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, তারা কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছেন। অন্যদিকে ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মহসিন রেজাই জানান, তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন। সেখানে মার্কিন সুর ইতিবাচকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: বৃটেনের গোয়েন্দা সংস্থাকে ‘বৈরী গোষ্ঠী’ ঘোষণা ইরানের

আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তেলবাহী জাহাজের ওপর অবরোধ তুলে নিলে, ইরানের সম্পদ ছাড় করলে এবং তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে তেহরান দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলী নিকজাদ স্পষ্ট করেছেন, পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে তারা কোনো অবস্থায় আলোচনা করবেন না। অতীতের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং পারমাণবিক স্থাপনায় বেআইনি বোমা হামলার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে রেজাই দাবি করেছেন, এই যুদ্ধের কারণে ট্রাম্প চাপের মুখে আছেন এবং এর প্রভাব ভিয়েতনাম যুদ্ধের চেয়েও বেশি ছড়িয়ে পড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *