ইসরায়েলে এবারের জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তানীতি নির্ধারণের অন্যতম দিকনির্দেশক। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এ নির্বাচনে ইসরায়েলের দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পুনঃরায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা এবং এরপর গাজা, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতের পর এটিই দেশটির প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে রয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টি। তবে জরিপে ভিন্নতা রয়েছে। কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৬১টি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে না। ফলে সরকার গঠনে জোট-সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচনে জীবনযাত্রার ব্যয়, নিরাপত্তা, ৭ অক্টোবরের হামলা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার জবাবদিহি এবং ইহুদি পুরুষদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। নেতানিয়াহুর বিরোধীরা হামলার সময় নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় তার ওপর চাপিয়েছেন। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধ নেতানিয়াহুর জোটের সমর্থকদের কাছে প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
ফিলিস্তিন নীতিতেও নির্বাচনের প্রভাব পড়তে পারে। নেতানিয়াহু বর্তমান কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের নিয়ে ক্ষমতায় ফিরলে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও কঠোর নীতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে আইজেনকটসহ বিরোধী নেতারাও ফিলিস্তিনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন।
আরও পড়ুন: ইরান অভিযান নিয়ে নেতানিয়াহু-সেনাপ্রধানের নজিরবিহীন বিরোধ
এদিকে, গাজা ও লেবাননের যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক সম্পর্ক চাপে রয়েছে। নেতানিয়াহুর দল পুনরায় ক্ষমতায় এলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচন শুধু নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, ইসরায়েলের নিরাপত্তা, ফিলিস্তিননীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপথও নির্ধারণ করতে পারে। তবে জোট সরকার গঠনের জটিলতার কারণে নির্বাচনের চূড়ান্ত রাজনৈতিক ফল জানতে কয়েক সপ্তাহও লেগে যেতে পারে।








































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































