ইরান কি ইতিমধ্যে পারমাণবিক বোমা তৈরি করে ফেলেছে, নাকি তার কাছাকাছি পৌঁছেছে—এমন প্রশ্ন এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু সংবাদমাধ্যমে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের পটভূমিতে আইআরজিসি-সংযুক্ত বার্তা সংস্থা ফার্সের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে, তখন তেহরান সেই হুমকিকে উড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে অনেকেই ধারণা করছেন, ইরানের হাতে হয়তো পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে কিংবা তারা এর দ্বারপ্রান্তে। সম্প্রতি চীন থেকে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম সরবরাহের খবর প্রকাশের পর এই আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
আইআরজিসি পারমাণবিক বোমা তৈরির দাবিকে জনসাধারণের চাহিদা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ফার্স রাস্তায় সাধারণ মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এক্স ও টেলিগ্রামে ছড়ানো ভিডিওতে বলা হয়েছে, এ মুহূর্তে ইরানিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত দাবি—আমেরিকা ও ইসরাইলের কাছে পারমাণবিক বোমা থাকবে, অথচ আমাদের থাকবে না কেন?
সংবাদ সংস্থাটি নির্বাচিত কয়েকটি সাক্ষাৎকারকে জনসমর্থনের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। যদিও এসব সাক্ষাৎকার থেকে কত সংখ্যক মানুষ এমন অবস্থান সমর্থন করেন, তার নির্ভরযোগ্য চিত্র পাওয়া যায় না। যুদ্ধের পর ইরানের কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও ক্ষমতাসীন মহলের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যুক্তির প্রতিধ্বনিই ফার্সের এই প্রচার।
ইরানের পারমাণবিক নীতিতে পরিবর্তনের আলোচনা সাম্প্রতিক যুদ্ধের আগেই শুরু হয়েছিল। ২০২৪ সালের মে মাসে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল খাররাজি বলেছিলেন, ইসরাইল যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় বা দেশের অস্তিত্বের হুমকি সৃষ্টি করে, তাহলে তেহরান তার নীতি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। পরে তিনি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির উপদেষ্টা হন এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলায় আহত হয়ে মারা যান।
গত আগস্টে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তিগুলো ইরানকে সামরিক হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, আমেরিকা যখন এ ধরনের যুদ্ধ চালাচ্ছে, তখন মানুষ স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করে—তাহলে আমরা নিজেরাই কেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করব না?
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে মাইন আঘাতে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম
কয়েকজন আইনপ্রণেতা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন। ১৮ অক্টোবর পার্লামেন্টের প্রেসিডিয়াম কমিটির সদস্য আহমেদ নাদেরি বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি পারমাণবিক পরীক্ষা ও বোমা তৈরির পক্ষে কথা বলে আসছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রয়াত পিতার অবস্থান থেকে ভিন্ন পথ নিতে পারেন। আলি খামেনি ধর্মীয় ফতোয়ার মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।
রক্ষণশীল সংবাদপত্র ‘ভাতান-এ ইমরোজ’ অক্টোবরে শিরোনাম করেছে, ‘ইরানের বোমা তৈরি করা উচিত’। পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র কোনো দেশের নিরাপত্তা বা অস্তিত্বের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। কট্টরপন্থিরা তার সমালোচনা করেছেন।

















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































