ট্রাম্প-জেলেনস্কি-newsedge24

পোপ ফ্রান্সিসের শেষকৃত্য উপলক্ষে ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় শনিবার (২৬ এপ্রিল) সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর এটি ছিল তাদের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রায় ১৫ মিনিটের এই বৈঠকটি ছিল ‘খুবই ফলপ্রসূ’। জেলেনস্কি এটিকে ‘প্রতীকী’ ও ‘ঐতিহাসিক সম্ভাবনাময়’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আমরা একের পর এক অনেক বিষয়ে আলোচনা করেছি। আলোচিত বিষয়ে ফলাফলের আশা করছি।” তিনি আরও বলেন, এই বৈঠক জনগণের জীবন রক্ষা, পূর্ণ ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় দুই নেতা মুখোমুখি বসে গভীর আলোচনায় মগ্ন। ট্রাম্প নীল স্যুট এবং জেলেনস্কি কালো পোশাকে ছিলেন। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক্সে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, “এই ঐতিহাসিক সাক্ষাতের গুরুত্ব বর্ণনার জন্য কোনো শব্দের প্রয়োজন নেই। দুই নেতা শান্তির জন্য কাজ করছেন।”

বৈঠকের একদিন আগে, শুক্রবার (২৫ এপ্রিল), ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন একটি শান্তি চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’। একই দিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। রুশ প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ এই বৈঠককে ‘গঠনমূলক ও অত্যন্ত উপকারী’ বলে বর্ণনা করেন।

বৈঠকের পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে পুতিনের বেসামরিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কোনো নেই। এটি আমাকে ভাবায়, হয়তো তিনি যুদ্ধ বন্ধ করতে চান না, শুধু আমাকে টালবাহানা করছেন। তাকে ‘ব্যাংকিং’ বা ‘সেকেন্ডারি স্যাংশন’ দিয়ে ভিন্নভাবে মোকাবিলা করতে হবে। অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে!”

ফেব্রুয়ারির বৈঠকে ট্রাম্প ও তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জেলেনস্কিকে মার্কিন সহায়তার জন্য ‘কৃতজ্ঞতার অভাব’ দেখানোর অভিযোগে তিরস্কার করেছিলেন, যা দুই দেশের সম্পর্কে সংকট সৃষ্টি করেছিল। এরপর থেকে হোয়াইট হাউস ইউক্রেনে শান্তি চুক্তির জন্য জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। শনিবারের এই সাক্ষাৎ সেই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জেলেনস্কির কার্যালয়ের প্রধান আন্দ্রে এরমাক ট্রাম্প-জেলেনস্কির ছবি পোস্ট করে এটিকে ‘গঠনমূলক’ আখ্যা দিয়েছেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এক্সে লিখেছেন, “শান্তির পোপের শেষকৃত্যে ট্রাম্প ও জেলেনস্কিকে শান্তি নিয়ে আলোচনা করতে দেখা একটি বিশাল তাৎপর্য বহন করে। আজ একটি ঐতিহাসিক দিন।”

জেলেনস্কি শনিবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁ, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। এই নেতারা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ম্যাক্রঁ এক্সে লিখেছেন, “ইউক্রেন নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *