মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে তারা রাশিয়ার সমুদ্রপথে আসা অপরিশোধিত তেল কেনা সীমিত করবেন। কয়েক মাস আগে ওয়াশিংটন এই ক্রয়-বাণিজ্যের কারণে নয়া দিল্লির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক-দণ্ড আরোপ করেছিল, যা মোট শুল্কহারকে ৫০ শতাংশে নিয়ে গেছে। ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, চীনকেও একই পদক্ষেপ নিতে রাজি করানোর চেষ্টা করবেন, কারণ ওয়াশিংটন এখন মস্কোর জ্বালানি আয়ের উৎস বন্ধ করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “তিনি (প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি) আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে রাশিয়া থেকে আর কোনো তেল কেনা হবে না। জানেনই তো, এটা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করা যায় না। কিছুটা সময় লাগে, কিন্তু প্রক্রিয়াটা খুব শিগগিরই শেষ হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, যদি ভারত রাশিয়া থেকে তেল না কেনে, তাহলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি ঘটানো অনেক সহজ হবে। যুদ্ধ শেষ হলে ভারত আবার রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে বলেও তিনি মনে করেন।
বর্তমানে রাশিয়ার সমুদ্রপথে তেল রপ্তানির দুই বৃহত্তম ক্রেতা হলো ভারত ও চীন। কমোডিটিজ ট্র্যাকার কেপলারের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানি ১০ শতাংশ কমলেও সেপ্টেম্বরে এটি ৩৪ শতাংশ ছিল। অক্টোবরেও আমদানি প্রায় ১.৬ মিলিয়ন ব্যারেল প্রতিদিনের হারে চলছে।
ভারত তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের মন্তব্যের সত্যতা স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। বৈদেশিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় (এমইএ) বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বলেছে, ভারত খাদ্য ও গ্যাস আমদানিতে ভোক্তাদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয় এবং বাজার পরিস্থিতি মেনে সোর্সিংকে ব্রড-বেসিং ও ডাইভার্সিফাই করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আরোপ সত্ত্বেও নয়া দিল্লি রাশিয়া থেকে তেল কেনার পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছে।
আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও রাশিয়ার তেল আমদানি করবে ভারত
রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভারতের ঐতিহাসিক কৌশলগত অংশীদার এবং এই তেল আমদানি জ্বালানির দাম কম রাখতে ও অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় বলে ভারতের অবস্থান। মার্কিন শুল্ককে ‘অন্যায়’ বলেও নয়া দিল্লি সমালোচনা করেছে। চীনও রাশিয়ার বড় ক্রেতা হলেও, ভারতই একমাত্র বড় অর্থনীতি যার উপর ট্রাম্প ‘দ্বিতীয় পর্যায়ের শুল্ক’ আরোপ করেছেন।
এই ঘোষণা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কোর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ওয়াশিংটনের কৌশলের অংশ। ট্রাম্প বলেছেন, এটি যুদ্ধবিরতির পথ সহজ করবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের জন্য রাশিয়ান তেল সাশ্রয়ী এবং বিকল্প সোর্সিংয়ে সময় লাগবে।
































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































