পাকিস্তানের সেনাপ্রধান (সিওএএস) ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসিম মুনির ভবিষ্যতে যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের বিজয় আল্লাহ দিয়েছেন এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী আল্লাহর বাহিনী। রোববার প্রেসিডেন্ট হাউসে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ ইবনে আল হুসেইনের সম্মানে মধ্যাহ্নভোজে ডেইলি জাং-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি আকাশের দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘পাকিস্তানকে আমি বিজয় এনে দিইনি, আল্লাহ দিয়েছেন।’
পাকিস্তান সেনাপ্রধান আরও বলেন, “এ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ যে মে মাসে পাকিস্তানের শত্রু পরাজিত হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আল্লাহর বাহিনী, এর সেনারা আল্লাহর নামে লড়াই করেন।” অনলাইন জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের সংঘর্ষে ভারত ৫ ও ৬ মে রাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন বেসামরিক ও নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। এরপর পাকিস্তান সাতটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে।
ভারতের এই হামলা জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগাম এলাকায় পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার পর ঘটে। পেহেলগাম হামলায় ২৮ জন নিহত হন। নয়াদিল্লি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ না দিয়েই পাকিস্তানকে দায়ী করে। পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে। পরে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ান-উম-মারসুস’ নামে বৃহৎ পাল্টা হামলায় বিভিন্ন অঞ্চলে ভারতের ২০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে এই যুদ্ধ ১০ মে শেষ হয়।
যুদ্ধের পরপরই সংঘর্ষকালীন নেতৃত্বের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জেনারেল মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা হয়। সেনাপ্রধান আবারও পাকিস্তানের শান্তিপূর্ণ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে বলেন, আগ্রাসন হলে পাকিস্তান দৃঢ় জবাব দেবে, যেমন মে মাসে ভারতের বিরুদ্ধে দিয়েছে। পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ঈমান থাকলে মুমিনরা শত্রুর শক্তির তোয়াক্কা না করেই বিজয় অর্জন করতে পারে—এ প্রতিশ্রুতি আল্লাহ দিয়েছেন। পাকিস্তান মে মাসে সেটিই প্রমাণ করেছে। সভায় উপস্থিতরা তাকে অভিনন্দন জানাতে শুরু করলে তিনি বলেন, পাকিস্তানের উন্নতির জন্য দোয়া করুন। তিনি আরও বলেন, আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব তিনি শেষ পর্যন্ত পালন করবেন।
আরও পড়ুন: যুদ্ধোত্তর ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বহুগুণ বেড়েছে
উল্লেখ্য, ফিল্ড মার্শাল মুনিরকে সরকার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (সিডিএফ) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এর ফলে তার মেয়াদ নতুনভাবে শুরু হবে। ১৩ নভেম্বর জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বলেন, সিডিএফের মেয়াদ নিয়োগের তারিখ থেকে পাঁচ বছর হবে।
































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































