যুক্তরাষ্ট্রে-প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান-চীন-নিষেধাজ্ঞা-newsedge24

তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ১০ জন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে বোয়িংয়ের সেন্ট লুইস প্রতিরক্ষা শাখা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

চীনের আরোপিত ব্যবস্থা অনুযায়ী, উল্লিখিত কোম্পানি ও ব্যক্তিদের চীনে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে এবং চীনের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের চীনে প্রবেশও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতাসহ নয়জন শীর্ষ কর্মকর্তা। নিষিদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নর্থরপ গ্রুম্যান সিস্টেমস কর্পোরেশন, এল৩হ্যারিস মেরিটাইম সার্ভিসেসও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, তাইওয়ানের আত্মরক্ষা সক্ষমতাকে সমর্থন করা মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই নীতি গত নয়টি মার্কিন প্রশাসনের সময় একই রকম ছিল এবং তাইওয়ান প্রণালিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, তাইওয়ান ইস্যু চীনের মূল স্বার্থের কেন্দ্রবিন্দু এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ‘লাল দাগ’। তাইওয়ান প্রশ্নে যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের কঠোর জবাব দেবে চীন। যুক্তরাষ্ট্রকে দ্বীপটিকে সশস্ত্র করার ‘বিপজ্জনক’ উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে।

এই পদক্ষেপ মূলত প্রতীকী বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে চীনের প্রত্যক্ষ ব্যবসায়িক সম্পর্ক খুবই সীমিত। তবে চীন বহু বছর ধরে বোয়িংয়ের বেসামরিক উড়োজাহাজের বড় ক্রেতা।

এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘোষণার জবাবে দেওয়া হয়েছে, যেখানে তাইওয়ানের জন্য ১১.১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির সর্ববৃহৎ প্যাকেজ অনুমোদন করা হয়। চীন গণতান্ত্রিক তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে, যা তাইপে প্রত্যাখ্যান করে। মার্কিন আইন অনুযায়ী তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার উপায় সরবরাহ করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই অস্ত্র বিক্রি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে বড় উত্তেজনার উৎসগুলোর একটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *