মার্কিন প্রেসিডেন্ট-ডোনাল্ড ট্রাম্প-newsedge24

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। শিগগিরই এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে।

যদিও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার মতো গুরুতর অপরাধের বিচার করা আন্তর্জাতিক এই আদালতের সদস্য নয়, তবে দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসির কার্যক্রমের বিরোধিতা করে আসছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন কর্মকর্তারা আইসিসিকে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের নিয়ে করা পুরোনো তদন্ত বন্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছেন। আর এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার মাধ্যমে সংস্থাটির ওপর আরও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে চায় ওয়াশিংটন।

জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগের ঘোষণা দেন। তিনি অন্যান্য দেশকেও আদালত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। এর আগে ওয়াশিংটন আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও পুরো আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে এতদিন বিরত ছিল।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো জানিয়েছে, আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে কখন তা ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন চলতি সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে।

আইসিসির পুরো প্রতিষ্ঠান এবং এর সঙ্গে সহযোগিতাকারী সংস্থাগুলোকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হলে আদালতটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিলে বিশেষ অনুমতি ছাড়া কোনো মার্কিন নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান আইসিসিকে অর্থ, পণ্য বা সেবা দিতে পারবে না।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে অনেক ব্যাংক অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে, কারণ তাদের মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকারের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। ফলে আইসিসির দৈনন্দিন কার্যক্রমও এতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

আদালতটির রেজিস্ট্রার ও প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, প্রতিষ্ঠানজুড়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও বিমা কেনা, তদন্তকারী নিয়োগ এবং দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন পরিচালনার মতো কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত আইসিসির কয়েক ডজন কর্মীকে বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিলে সই করলেন ট্রাম্প

আইসিসির সঙ্গে ট্রাম্পের বিরোধ নতুন নয়। তার প্রথম মেয়াদেও আদালতটির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ট্রাম্প পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর এ পরিকল্পনা আবার সামনে আসে। একই সময়ে গাজা সংঘাতের ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল আইসিসি।

২০০২ সালে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। যুদ্ধাপরাধ, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। কোনো সদস্য রাষ্ট্র নিজে এসব অপরাধের বিচার করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হলে আইসিসি সেখানে বিচারিক এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *