যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ-01032-NewsEdge24

ইরানের চারপাশ আবার ঘিরে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সেনা, যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে রণপ্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে এ মোতায়েনের মাধ্যমে ইরানে নতুন ভয়াবহ হামলার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এমনও হতে পারে, ইরানের সঙ্গে চুক্তির দরকষাকষিতে দেশটিকে মানসিক চাপে রাখতে এ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, তারা প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। বিশ্লেষকদের দাবি, নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় নিজের পতনশীল ইমেজ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা হিসেবে ট্রাম্প এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন।

এরই মধ্যে ইরানের কাছাকাছি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরি বহর মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র। আল জাজিরাকে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। যুদ্ধ অষ্টম মাসে প্রবেশ করেছে। সংঘাত বাড়ানো এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ—দুই পথই বিবেচনা করছে উভয় পক্ষ। আরও কয়েক হাজার মার্কিন সেনাও মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে এই মোতায়েন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: আল-আকসায় শত শত ইসরাইলি প্রবেশ ও নাচ-গান

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি বহর রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। এর এক দিন পর রওনা হয়েছে মেকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট, যাতে দুই হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এ মোতায়েনে সব মিলিয়ে অতিরিক্ত ৯ থেকে ১০ হাজার মার্কিন সেনা যুক্ত হতে পারে। নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের কাছাকাছি তিনটি বিমানবাহী রণতরি এবং দুটি উভচর অবতরণকারী বহর অবস্থান করবে। এ নতুন মোতায়েনে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও রয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই অবস্থান করা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে আরও সামরিক শক্তি যুক্ত হবে।

পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক আলোচনা যেদিকেই অগ্রসর হোক না কেন, ট্রাম্পের জন্য সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প ‘টেবিলে রাখা’ই এই মোতায়েনের লক্ষ্য। ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলেও বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কোনো সামরিক সরঞ্জাম বা সেনা সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেছেন, ট্রাম্প নতুন হামলার নির্দেশ দিলে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত।

আরও পড়ুন: চীন-যুক্তরাষ্ট্র ৬০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে শুল্ক কমাতে সম্মত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উপস্থিতি রয়েছে। কয়েক দশক ধরে অঞ্চলটির বিভিন্ন ঘাঁটিতে সেনা ও সরঞ্জাম মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকেই ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছেন।

সর্বশেষ মোতায়েনের অর্থ কী, তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বোমা হামলা আরও বাড়ানো সম্ভব। কিছু বিশ্লেষকের মতে, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় দর-কষাকষির কৌশল হিসেবেও এ অতিরিক্ত মোতায়েন করা হতে পারে।

গত সপ্তাহে ইরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি নতুন প্রস্তাব পাঠায়। এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত এবং হামলা বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে বলে শর্ত দেয় তেহরান। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো অন্যান্য বিষয়ও আলোচনায় আসুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *