হরমুজ প্রণালি-hormuz strait-newsedge24

হরমুজ প্রণালিতে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ডুবে গেছে। মঙ্গলবার সংঘটিত এ ঘটনায় জাহাজের ২১ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাবিকদের কেউ আহত হননি।

জাহাজটির নাম ‘জিএফএস প্রাইড’। হামলার পর এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং আগুন লাগে। এরপর এটি পানিতে তলিয়ে যায়। একই সময়ে সিঙ্গাপুরের আরেক পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘জিএফএস জিসেল’ বুধবার হামলার শিকার হয়। এর বাইরের অংশে ক্ষতি হলেও ২২ জন নাবিকসহ জাহাজটি নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির একটি অননুমোদিত রুটে চলার সময় নৌ-মাইনে ধাক্কা খেয়ে জাহাজটি ডুবেছে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কনটেইনার জাহাজের পেছনের অংশ পানিতে ডুবে আছে এবং সেখান থেকে কালো ধোঁয়া উঠছে। আরেক ছবিতে পানিতে ভাসমান অসংখ্য কনটেইনার ও পণ্য দৃশ্যমান।

পাকিস্তানের হাইড্রোগ্রাফার সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের রাস আল-শেখ মাসুদ এলাকার উত্তর-পশ্চিমে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল দূরে জিএফএস প্রাইড ডুবেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানায়, মঙ্গলবার গ্রিনিচ সময় বিকেল ৪টা ৪০ থেকে ৫টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় দুটি নামহীন কনটেইনার জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতের খবর দেয়। সেগুলো সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যাত্রা অব্যাহত রাখে।

ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে বারবার হামলা হচ্ছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত ১০৬টি ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নাবিক নিহত হয়েছেন।

এর আগে মাল্টার পতাকাবাহী কনটেইনার জাহাজ ‘সাফিন প্রেস্টিজ’ গত ৪ মার্চ ওমানের কাছে হামলার শিকার হয়ে ডুবে যায়। সামুদ্রিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড জানিয়েছে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘কেপ দাও’ উদ্ধার অভিযান ব্যর্থ হওয়ায় ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওমানের খাসাব এলাকার কাছে এর চালনাকক্ষ ও নাবিকদের আবাসিক অংশে অজ্ঞাত বস্তুর আঘাত লাগে এবং একজন নাবিক নিহত হন।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারে নতুন কৌশল ইরানের

বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে হয়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে যুদ্ধ শুরুর পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছিল। জুনে যুদ্ধ শেষ ও প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান প্রাথমিক সমঝোতা হলেও হামলা ও অবরোধ ফের চালু হওয়ায় তা ভেস্তে যায়।

ইরান বলেছে, তারা এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ছাড়বে না। এরপর তারা ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়া দক্ষিণ রুটের জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে মার্কিন বাহিনী ট্যাংকারগুলোকে নিরাপত্তা দিচ্ছে।

হামলা বাড়লেও গত মাসে হরমুজ দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি যুদ্ধ-পূর্ব স্তরের প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এই নৌপথের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *