ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির মাঝে সীমান্তবর্তী চার রাজ্যে মক ড্রিল-newsedge24

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালের ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আওতায় পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার লক্ষ্য ছিল জইশ-ই-মোহাম্মদ ও লশকর-ই-তাইয়েবার সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংস করা। এই হামলা ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চালানো হয়, যেখানে ২৫ জন ভারতীয় ও একজন নেপালি নাগরিক নিহত হন। পাকিস্তান এই হামলার দায় অস্বীকার করলেও, পাল্টা হামলায় জম্মু ও পাঞ্জাবে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়, যার মধ্যে পুঞ্চে ১৬ জন নাগরিক নিহত হন।

৭ মে দেশব্যাপী মক ড্রিলের পর, এবার চারটি সীমান্তবর্তী রাজ্যে নতুন মক ড্রিলের ঘোষণা এসেছে। এই ড্রিলের লক্ষ্য সীমান্তবর্তী এলাকার জনগণ ও প্রশাসনকে জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করা। বৃহস্পতিবার (২৯ মে, ২০২৫) সন্ধ্যায় গুজরাট, পাঞ্জাব, রাজস্থান এবং জম্মু ও কাশ্মীরে এই মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এই ড্রিলে বিমান হামলার সতর্কতামূলক সাইরেন, ব্ল্যাকআউট প্রোটোকল এবং নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে। নাগরিক প্রতিরক্ষা দল, পুলিশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিট এবং চিকিৎসা কর্মীদের সমন্বয়ও মূল্যায়ন করা হবে। জনগণকে নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

গত ৭ মে ‘অপারেশন অভ্যাস’ নামে দেশব্যাপী মক ড্রিলে ৩৩টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ২৫০টি স্থানে বিমান হামলার সাইরেন এবং নাগরিক প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়েছিল। এটি ছিল ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর প্রথম এ ধরনের বৃহৎ উদ্যোগ। পশ্চিম ভারতের পাশাপাশি সম্প্রতি পূর্ব ভারতেও ‘তিস্তা প্রহার’ নামে একটি মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ড্রিলে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং অন্যান্য এজেন্সির সমন্বয় ও অস্ত্র প্রয়োগের দক্ষতা পরীক্ষা করা হয়। চার দিনের এই ড্রিলের সমাপ্তিতে মালদহের ফারাক্কা বাঁধে একটি বিশেষ মক ড্রিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাঁধের নিরাপত্তা বাহিনীও অংশ নেয়।

এই মক ড্রিলগুলো সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে গৃহীত হলেও, যুদ্ধবিরতির এই সূক্ষ্ম সময়ে ঘন ঘন ড্রিলের ঘোষণা জনমনে কৌতূহল ও উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে, এটি কোনো বৃহত্তর সংঘাতের প্রস্তুতি কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ড্রিলগুলো জনগণ ও প্রশাসনকে সতর্ক রাখার পাশাপাশি পাকিস্তানের প্রতি কৌশলগত বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যেও হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *