যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলা বাতিল না করলে ইসরাইলকে প্রদত্ত বার্ষিক ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। এই বক্তব্যকে হারেৎস মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যেখানে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে একটি মিত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করেছেন।
ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, “ইসরাইলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে মহান মুহূর্তের পরও, বিবি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এই হাস্যকর উইচহান্ট (রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র) চলছে। এটি অবিলম্বে বাতিল করা উচিত, অথবা তাঁকে ক্ষমা করা উচিত।” তিনি নেতানিয়াহুকে “যুদ্ধবীর” আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় এবং হামাসের সঙ্গে জিম্মি মুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ট্রাম্প দাবি করেন, এই বিচার নেতানিয়াহুর কাজে বাধা সৃষ্টি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন ডলারের সহায়তার পরও ইসরাইলের এমন আচরণ “মেনে নেওয়া যায় না।”
নেতানিয়াহু ২০১৯ সাল থেকে তিনটি মামলায় ঘুষ, প্রতারণা, এবং আস্থা ভঙ্গের অভিযোগে বিচারাধীন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, এটিকে “রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র” বলে আখ্যায়িত করেছেন। মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে হলিউড প্রযোজক আরনন মিলচানের কাছ থেকে প্রায় ২০০,০০০ ডলারের উপহার গ্রহণ এবং মিডিয়া মালিকদের সঙ্গে সুবিধার বিনিময়ে ইতিবাচক প্রচারণার অভিযোগ। নেতানিয়াহু ইসরাইলের ইতিহাসে প্রথম ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী যিনি এমন অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি।
ট্রাম্পের এই হুমকি ইসরাইলের রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। নেতানিয়াহু তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে ট্রাম্পের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন, বলেন, “আপনার হৃদয়গ্রাহী সমর্থন আমাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।” তবে বিরোধী নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেন, “ট্রাম্পের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও, তিনি একটি স্বাধীন দেশের আইনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন না।” লিকুদ পার্টির সদস্য আরিয়েল কেলনার এবং ধর্মীয় জায়নিস্ট পার্টির সিমচা রথমানও বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন। ইসরাইলি বার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এমন হস্তক্ষেপকে “অপরাধমূলক” বলে আখ্যা দিয়েছেন, যদি এটি নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বিত হয়।
ট্রাম্পের এই অবস্থান মার্কিন-ইসরাইল সম্পর্কে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে। অতীতে ট্রাম্প ডেমোক্রেটদের ইসরাইল বিরোধী বলে সমালোচনা করলেও, এবার তিনি নিজেই সামরিক সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়েছেন, যা ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ঐতিহ্য ভাঙার পাশাপাশি ইসরাইলের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: হারেৎস, রয়টার্স



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































