সায়মা ওয়াজেদ পুতুল-newsedge24

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের (এসইএআরও) পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ১১ জুলাই ২০২৫ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুটি মামলা দায়েরের চার মাস পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইলে জানিয়েছেন, সায়মা ওয়াজেদের স্থলে সহকারী মহাপরিচালক ক্যাথারিনা বেম ১৫ জুলাই থেকে নয়াদিল্লির এসইএআরও কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদ আঞ্চলিক পরিচালক পদে নিয়োগের প্রচারণার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, যা বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৬৮ (প্রতারণার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি) ও ৪৭১ (জাল দলিল ব্যবহার) ধারা লঙ্ঘন করে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) একটি অনারারি পদে ছিলেন বলে দাবি করেছিলেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে। এই দাবি তিনি ডব্লিউএইচওতে নিজের অবস্থান মজবুত করতে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ। এছাড়া, সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রধান হিসেবে তিনি ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২৮ লাখ মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছেন, যার ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য মামলায় দেওয়া হয়নি। এসব অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা (প্রতারণা) ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা অন্তর্ভুক্ত।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার প্রকাশিত তথ্য দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায়

সায়মা ওয়াজেদ, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এসইএআরওর আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নিয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল, বিশেষ করে অভিযোগ উঠেছিল যে তাঁর মা শেখ হাসিনা প্রভাব খাটিয়ে এই নিয়োগ নিশ্চিত করেছেন। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা জনরোষের মুখে ভারতে পালিয়ে যান। এরপর থেকে সায়মা ওয়াজেদ ভারতে অবস্থান করছেন এবং বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, যার ফলে তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে অবাধে ভ্রমণ করতে পারছেন না।

জাতিসংঘের দিল্লির একটি সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সায়মাকে প্রাথমিকভাবে চার মাসের ছুটি দেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে জেনেভায় ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলিতে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালককে সায়মার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অস্বস্তির কথা জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এটি দায়বদ্ধতার দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তারা সায়মা ওয়াজেদকে পদ থেকে স্থায়ীভাবে অপসারণ এবং ডব্লিউএইচওর বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।

সূত্র: হেলথ পলিসি ওয়াচ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *