মিয়ানমারে জান্তা সরকার দেশটির দীর্ঘদিনের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করেছে, যা ডিসেম্বর ২০২৫-এর জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতিকে আরও জোরদার করেছে। তবে এই নির্বাচন বিরোধী দলগুলোর বর্জন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। অনলাইন গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চির সরকারকে উৎখাত করে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে জান্তা, যা দেশটিতে বহুমুখী গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়। এই অভ্যুত্থানের ফলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
জরুরি অবস্থার আড়ালে জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং আইনসভা, নির্বাহী ও বিচার বিভাগের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি নির্বাচনকে সংকট থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে তুলে ধরছেন। জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক ভয়েস মেসেজে বলেন, “বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে নির্বাচন আয়োজনের জন্য জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক এমপিদের নেতৃত্বে থাকা জাতীয় ঐক্য সরকার (এনইউজি)-সহ বিরোধী গোষ্ঠীগুলো এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। গত মাসে জাতিসংঘের এক বিশেষজ্ঞ এই নির্বাচনকে “প্রহসন” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি সামরিক শাসনের বৈধতা দেয়ার কৌশল মাত্র। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিন অং হ্লাইং প্রেসিডেন্ট বা সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে ক্ষমতা ধরে রাখতে এই নির্বাচনকে ব্যবহার করবেন।
রাজধানী ন্যাপিড’তে এক অনুষ্ঠানে মিন অং হ্লাইং বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে প্রথম অধ্যায় অতিক্রম করেছি। এখন দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু করছি। ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে এবং সকল যোগ্য ভোটার যেন ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে।” তবে নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। রাজনৈতিক দলগুলো নিবন্ধন শুরু করেছে এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের প্রশিক্ষণও চলছে।
আরও পড়ুন: মায়ানমার সিমান্তে ভারতীয় ড্রোন হামলায় উলফার ৩ শীর্ষ নেতা নিহত
মিয়ানমারে জান্তা সরকার বুধবার একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে, যেখানে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে বক্তব্য বা প্রতিবাদের জন্য ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত আদমশুমারিতে দেশটির ৫১ মিলিয়ন জনগণের মধ্যে ১৯ মিলিয়নের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা সমস্যা এই প্রক্রিয়ায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা গৃহযুদ্ধের মধ্যে নির্বাচনের সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দেয়।
বিরোধীদের মতে, এই নির্বাচন শান্তি বা স্থিতিশীলতা আনবে না, বরং বিভক্তি, সহিংসতা ও সামরিক শাসনকে আরও জোরদার করবে। এনইউজি’র মুখপাত্র জাও কিয়াও বলেন, “এই নির্বাচন সামরিক বাহিনীর অবৈধ শাসনকে বৈধতা দেয়ার একটি প্রচেষ্টা। এটি স্থিতিশীলতার পরিবর্তে আরও অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টি করবে।”
































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































