ইউক্রেন-যুদ্ধ-বন্ধে-ট্রাম্প-পুতিন-বৈঠক-newsedge24

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে শুক্রবার (১৫ আগস্ট ২০২৫) আলাস্কার অ্যানকোরেজে এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটিতে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় দুপুর ১:০৮ মিনিটে শুরু হওয়া এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানো। যদিও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি, তবে উভয় নেতাই আলোচনাকে ফলপ্রসূ হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং অগ্রগতির সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন।

বৈঠকের বিবরণ

বৈঠকে ট্রাম্প ও পুতিন ছাড়াও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং রুশ পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি, তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে এখনো পৌঁছাইনি।” তিনি জানান, তিনি এখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, কারণ চূড়ান্ত চুক্তি তাদের সম্মতির ওপর নির্ভর করবে।

পুতিন বলেন, তিনি ইউক্রেন যুদ্ধকে একটি “ট্রাজেডি” হিসেবে বিবেচনা করেন এবং এটি বন্ধে “আন্তরিকভাবে আগ্রহী”। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “একটি স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সংঘাতের মূল কারণগুলো নির্মূল করতে হবে।” তিনি এই কারণগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি। পুতিন ইউক্রেন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানান এবং ট্রাম্পের ইতিবাচক মনোভাবের জন্য ধন্যবাদ দেন।

ট্রাম্প বৈঠককে “অত্যন্ত ফলপ্রসূ” এবং “উষ্ণ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি পুতিনকে “শক্তিশালী” ও “কঠোর” ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, “আমরা অনেক বিষয়ে একমত হয়েছি।” ফক্স নিউজের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা গ্যারান্টি প্রয়োজন হবে। তিনি জেলেনস্কির উদ্দেশে বলেন, “যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি করুন।”

ট্রাম্প এর আগে পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধে ১০-১২ দিনের সময়সীমা দিয়েছিলেন এবং ব্যর্থ হলে রাশিয়ার ওপর কঠোর শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে বৈঠকের পর তিনি জানান, চীনের তেল ক্রয়ের কারণে রাশিয়ার ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি আপাতত স্থগিত রাখবেন।

আরও পড়ুন: জেলেনস্কি ইউক্রেন ভূখণ্ড ছাড়বেন না

পুতিন বৈঠকে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করলেও কিছু শর্ত আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ারও নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে, যা উপেক্ষা করা যায় না। তিনি ট্রাম্পকে মস্কো সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে ইউক্রেন ও ইউরোপীয়রা শান্তি প্রক্রিয়ায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।

ইউক্রেন ও ইউরোপের প্রতিক্রিয়া

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই বৈঠকে সরাসরি অংশ নেননি। তিনি ট্রাম্পের ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি ইউক্রেনের সংবিধানের পরিপন্থী এবং তাদের অনুপস্থিতিতে কোনো চুক্তি মেনে নেওয়া হবে না। জেলেনস্কি বৈঠকের আগে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং ট্রাম্পকে তাদের সমন্বিত অবস্থান জানান। তিনি বলেন, “যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগই একমাত্র উপায়।”

ইউরোপীয় নেতারা, যার মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুত্তে ছিলেন, যৌথ বিবৃতিতে বলেন, যেকোনো চুক্তিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তারা পুতিনের সমঝোতায় না আসার ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *