পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের নির্দেশে দলটির সংসদ সদস্যরা জাতীয় পরিষদের স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ শুরু করেছেন। এই পদক্ষেপকে দলের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যার মধ্যে আসন্ন উপনির্বাচন বর্জনের ঘোষণাও রয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও নিউজ।
পদত্যাগকারী সংসদ সদস্যরা
পিটিআইয়ের একাধিক সংসদ সদস্য তাদের নিজ নিজ কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন:
- আলি আসগর: মন্ত্রিসভা, বেসরকারিকরণ, এবং পরিকল্পনা কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।
- সাজিদ খান: প্রবাসী, জাতীয় ঐতিহ্য, এবং কাশ্মীর-সংক্রান্ত কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইমরান খানের নির্দেশ পেলে তিনি সংসদ সদস্য পদও ছাড়তে প্রস্তুত।
- শাহিদ খাট্টাক: সব স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
- ফয়সাল আমিন খান: খাইবার পখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুরের ভাই। তিনি অর্থনৈতিক বিষয়ক, খাদ্য নিরাপত্তা, এবং সংসদীয় টাস্কফোর্স কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্র দলের প্রধান হুইপ আমির দোগারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
- আসিফ খান: শিক্ষা, জাতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, এবং তথ্য ও সম্প্রচার কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিকের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।
- জুনায়েদ আকবর: সরকারি হিসাব কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দলের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
- শেখ ওয়াকাস আকরাম: পিটিআইয়ের মুখপাত্র হিসেবে জাতীয় পরিষদের সব স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং স্পিকার আয়াজ সাদিকের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় পরিষদের স্পিকার আয়াজ সাদিক ফয়সাল আমিন খান এবং আলি আসগরের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।
ইমরান খান পিটিআই নেতাদের বিচারিক কমিশন থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ তিনি দলের এই কমিশনে অংশগ্রহণকে অকার্যকর বলে মনে করেন। বর্তমানে পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর খান এবং সিনেটর আলি জাফর এই কমিশনের সদস্য। তবে, সূত্র জানায়, ব্যারিস্টার গওহর এখনো পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
উপনির্বাচন বর্জন
পিটিআই আসন্ন উপনির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে, যেখানে ৯ মে, ২০২৩-এর দাঙ্গা-সংক্রান্ত মামলায় অযোগ্য ঘোষিত দলীয় সংসদ সদস্যদের আসনে ভোট হবে। দলটি জানিয়েছে, এই অযোগ্য ঘোষিত ব্যক্তিরাই তাদের “সত্যিকারের প্রতিনিধি”। নির্বাচন কমিশন অব পাকিস্তান (ইসিপি) সম্প্রতি ৯ মে-র মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় পিটিআইয়ের কয়েকজন আইনপ্রণেতাকে অযোগ্য ঘোষণা করেছে, যার ফলে একাধিক আসন শূন্য হয়েছে। উপনির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ১৮ সেপ্টেম্বর এনএ-৬৬ ওয়াজিরাবাদ, এনএ-১২৯ লাহোর-১৩, এবং পিপি-৮৭ মিয়ানওয়ালি-৩ আসনে ভোট হবে। এছাড়া, ৫ অক্টোবর এনএ-১৪৩ সাহিওয়াল-৩, এনএ-১৮৫ ডিজি খান-২, পিপি-২০৩ সাহিওয়াল-৬, এনএ-৯৬ ফয়সালাবাদ-২, এনএ-১০৪ ফয়সালাবাদ-১০, এবং পিপি-৯৮ ফয়সালাবাদ-১ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
ইমরান খান এই উপনির্বাচনে অংশগ্রহণকে “অবৈধ অযোগ্যতা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ত্রুটি” বৈধতা দেওয়ার সমতুল্য বলে মনে করেন। তিনি দলের রাজনৈতিক কমিটিকে সদস্যদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। দলীয় সূত্র জানায়, রাজনৈতিক কমিটির অধিকাংশ সদস্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতার অভাবের কারণে উপনির্বাচন বর্জনের পক্ষে মত দিয়েছেন।
পিটিআইয়ের রাজনৈতিক কৌশল
ইমরান খানের নেতৃত্বে পিটিআই এই পদক্ষেপগুলোকে “অস্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্রীয় চাপের” বিরুদ্ধে তাদের নীতিগত অবস্থান হিসেবে বর্ণনা করেছে। দলটি মনে করে, উপনির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে তা তাদের নির্বাচনী সততার প্রতি অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। এছাড়া, ২০২৩ সালে পিটিআই পাঞ্জাব ও খাইবার পখতুনখোয়া প্রাদেশিক পরিষদ ভেঙে দিয়েছিল, যা তৎকালীন পিডিএম নেতৃত্বাধীন ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদের অংশ ছিল।
আরও পড়ুন: চীনের কাছ থেকে অত্যাধুনিক সাবমেরিন কিনছে পাকিস্তান
ইমরান খান জানিয়েছেন, তাকে একাকী কারাগারে রাখা বা ভয় দেখানো তার সংকল্প ভাঙতে পারবে না। তিনি আগামী সেপ্টেম্বরে বিচারিক স্বাধীনতা এবং তার মুক্তির দাবিতে একটি বড় জনসমাবেশের পরিকল্পনা করছেন।
ক্ষমতাসীন জোট পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ঘোষণা করেছে, তারা যৌথভাবে সারা দেশে উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।


































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































