হামাসের-হুঁশিয়ারি-newsedge24

গাজায় চলমান স্থল আক্রমণের মধ্যে পৃথক ঘটনায় ছয়জন ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর হামাস ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, গাজা শহরের দিকে আরও এগিয়ে গেলে এটি হবে তাদের সেনাদের ‘কবরস্থান’। এই সতর্কতা যুদ্ধের তীব্রতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

হামাসের সশস্ত্র শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেড এক বিবৃতিতে গাজাকে ‘ব্যয়বহুল যুদ্ধক্ষেত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার জন্য হামাস যোদ্ধারা গাজার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মোতায়েন রয়েছে। ইসরায়েলি বন্দীদের ভাগ্য তাদের সামরিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভরশীল। হিব্রু ভাষায় প্রকাশিত এই বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, বন্দীরা গাজা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। হামাস সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যতক্ষণ বন্দীদের ‘হত্যার’ জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকবেন, ততক্ষণ তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না।

ইসরায়েলি বাহিনী বৃহস্পতিবার উত্তর গাজার দিকে ট্যাঙ্ক নিয়ে আরও এগিয়েছে, গাজা শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসা কর্মীরা জানান, ইসরায়েলি বিমান হামলায় কমপক্ষে ৩৩ জন নিহত হয়েছে, যাদের মৃতদেহ আল-শিফা হাসপাতালে আনা হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫৭,৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগ বেসামরিক নাগরিক।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় পৃথক আক্রমণে ২১-এর বেশি সৈন্য নিহত হয়েছে, যার মধ্যে একটি বোমা বিস্ফোরণে সাতজন মারা গেছেন। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৮৮৭ জন ইসরায়েলি সৈন্য নিহত হয়েছে। হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজা শহর দখলের চেষ্টা করলে ইসরায়েলি সৈন্যদের ধরার সম্ভাবনা বাড়বে এবং বন্দীদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।

আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ ঘোষণা জাতিসংঘের

কাতারে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি আলোচনা চলছে, যেখানে ৬০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও বন্দী মুক্তির প্রস্তাব রয়েছে। তবে রক্তপাতের মধ্যে এই আলোচনা আটকে আছে। ফিলিস্তিনি কর্মীরা জানান, গাজায় অবরোধের কারণে খাদ্য সংকট ও অপুষ্টি চরমে পৌঁছেছে, যা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *