সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল শেখের ইন্তেকাল ইসলামী বিশ্বে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) বেলা ১১টার দিকে রিয়াদের নিজ বাসভবনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। আরব নিউজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং রাজকীয় সৌদি আদালতের এক বিবৃতিতে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। ৮২ বছর বয়সী এই মহান ধর্মীয় নেতার বিদায় সৌদি রাজপরিবার এবং মুসলিম উম্মাহর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
রাজকীয় সৌদি আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল শেখের ইন্তেকালে সৌদি আরব এবং মুসলিম বিশ্ব একজন বিশিষ্ট পণ্ডিতকে হারিয়েছে, যিনি ইসলাম এবং মুসলমানদের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং জাতীয় শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। দুই পবিত্র মসজিদের কর্তৃপক্ষও শোক প্রকাশ করে বলেছে, তাঁর জ্ঞান, বিনয় এবং স্পষ্টবাদিতা সর্বত্র সমাদৃত ছিল।
শেখ আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ আল শেখ ১৯৪৩ সালের ৩০ নভেম্বর রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল আশ-শেখ পরিবারের সদস্য, যা ইসলামী ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। অল্প বয়সে কুরআন মুখস্থ করেন এবং শরিয়া শাস্ত্রে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আল শেখ এবং শেখ আব্দুল আজিজ বিন বাজ। তাঁর ক্যারিয়ার শুরু হয় শিক্ষকতা দিয়ে। ১৯৬৯-৭০ সালে রিয়াদের দুখনায় শেখ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম মসজিদে ইমামতি করেন। ১৯৭৯ সালে মক্কার শরিয়া কলেজে সহকারী অধ্যাপক নিযুক্ত হন এবং ১৯৮২ সালে আরাফাতের নিমরাহ মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৭ সালে সিনিয়র স্কলার কাউন্সিলের সদস্য, ১৯৯১ সালে পার্মানেন্ট কমিটি ফর স্কলারলি রিসার্চ অ্যান্ড ইফতারের সিনিয়র সদস্য এবং ১৯৯৫ সালে ডেপুটি গ্র্যান্ড মুফতি নিযুক্ত হন। ১৯৯৯ সালের জুনে রাজা ফাহদ তাঁকে গ্র্যান্ড মুফতি হিসেবে নিযুক্ত করেন, যা তাঁর পূর্বসূরি শেখ আব্দুল আজিজ বিন বাজের মৃত্যুর পর ঘটে। তিনি সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ ছিলেন এবং পার্মানেন্ট কমিটি ফর ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড ইস্যুয়িং ফতোয়ার প্রধান।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান-সৌদি আরব পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর
তিনি সিনিয়র স্কলার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং জেনারেল প্রেসিডেন্সি অব ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড ইফতার চেয়ারম্যান হিসেবে মন্ত্রিস্থানীয় মর্যাদা ভোগ করতেন। তাঁর ফতোয়াগুলো সৌদি আদালত ব্যবস্থা এবং সামাজিক বিষয়ে গভীর প্রভাব ফেলত। উল্লেখযোগ্যভাবে, তিনি আত্মঘাতী বোমা হামলাকে ‘মহা অপরাধ’ বলে নিষেধ করেন এবং বোমারকারীদের ‘নরকের পথিক’ বলে অভিহিত করেন। ২০১৩ সালে জিজানের এক রাউন্ডঅ্যাবাউটে ঘোড়ার মূর্তি অপসারণের ফতোয়া দেন, যা শরিয়া লঙ্ঘন বলে মনে করেন।
সৌদি রাজপরিবার এবং ইসলামী জগত তাঁর ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছে। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান কনডোলেন্স জানিয়েছেন এবং তাঁকে ‘প্রধান ধর্মীয় পণ্ডিত’ বলে সম্মান করেছেন। তাঁর জানাজা আজ আসরের নামাজের পর রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আব্দুল্লাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বাদশাহ সালমানের নির্দেশে মসজিদে হারাম, মসজিদে নববী এবং দেশের সব মসজিদে গায়েবানা জানাজার নামাজ আদায় করা হবে। তাঁর অবদান ইসলামী গবেষণা, ফতোয়া এবং সামাজিক নির্দেশনায় চিরকাল মনে রাখা হবে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































