দোহায়-পাকিস্তান-আফগানিস্তান-newsedge4

সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ ও বিমান হামলার পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান আজ শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় বসেছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এই আলোচনার ঘোষণা দিয়েছে, যা গত সপ্তাহের সহিংসতা ও অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল আসিম মালিক আফগান তালেবান প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার জন্য দোহায় পৌঁছেছেন। আফগানিস্তানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব। আলোচনার মূল লক্ষ্য ক্রস-বর্ডার সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করা এবং সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা।

গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়, যখন তালেবানরা পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে আক্রমণ চালায়। জবাবে পাকিস্তান আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালায়, যাতে কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়। এই সংঘর্ষে গত ১০ অক্টোবর থেকে ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৩৬০ জনের বেশি আহত হয়েছে। গত বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুই দিনের জন্য অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা আজকের আলোচনার পথ সুগম করেছে।

পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তান মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে এবং আইএসআইএস-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। গত শুক্রবার একটি আত্মঘাতী হামলায় ৭ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শান্তি আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানি সেনাঘাঁটিতে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১২

কাতারের মধ্যস্থতায় চলা এই দোহা আলোচনা সফল হলে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে এটি সবচেয়ে খারাপ সীমান্ত সংঘর্ষের পরিস্থিতি। আফগান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, “আমরা শান্তির জন্য পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *