ডোনাল্ড ট্রাম্প-নরেন্দ্র মোদি-newsedge24

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও দাবি করেছেন যে, ভারত রাশিয়ান তেল কেনার পরিমাণ সীমিত করতে সম্মত হয়েছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভারত যদি তার শর্ত না মানে এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না করে, তবে ভারতীয় পণ্যের ওপর ‘বিপুল পরিমাণ শুল্ক’ আরোপ করা হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

ট্রাম্প বলেন, “আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন ‘রাশিয়ান তেল’ বিষয়টা আর করবেন না।” গত সপ্তাহেও ট্রাম্প এই একই কথা বলেছিলেন। তখন ট্রাম্পের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে ভারত জানিয়েছিল যে, রাশিয়ান তেল আমদানি নিয়ে ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে কোনো টেলিফোন আলাপ হয়নি। ভারতের এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, “যদি তারা এটা বলতে চায়, তাহলে তাদের ‘বিপুল পরিমাণ শুল্ক’ দিতে হবে, আর তারা নিশ্চয়ই সেটা চাইবে না।”

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে। ওয়াশিংটনের মতে, রাশিয়ার তেলবাণিজ্য মস্কোর ইউক্রেন যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে পরোক্ষভাবে অর্থায়ন করছে। রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা দেশগুলো যখন তেল কেনা বন্ধ করে ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তখন থেকেই ভারত ছাড়কৃত মূল্যে সমুদ্রপথে বিক্রি হওয়া রাশিয়ান তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতায় পরিণত হয়েছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যেই ভারতের এক বৃহৎ রপ্তানির ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে।

আরও পড়ুন: রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করবে মোদি: ট্রাম্প

এই শুল্ক বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। এতে রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেনের জন্য ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত জরিমানা রয়েছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থের প্রধান উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, ভারত যদি মস্কোর সঙ্গে তেলের ব্যবসা চালিয়ে যায়, তবে এই শুল্ক বহাল থাকবে, এমনকি আরও বাড়ানো হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ভারত রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করবে। কিন্তু ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই দাবি নাকচ করে বলেছে, ওই দিনে দুই নেতার মধ্যে কোনো ফোনালাপের খবর তাদের জানা নেই। তারা আরও বলেছে, ভারতের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ‘ভারতের ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *