রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই পরিবর্তনের ফলে ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটনের ২৮-দফা পরিকল্পনা রাশিয়ার পক্ষে অতিরিক্ত সুবিধাজনক বলে সমালোচিত হয়েছিল। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুসারে, রোববার জেনেভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় বসে ওয়াশিংটন ও কিয়েভ। উভয় পক্ষ জানিয়েছে, নতুন পরিকল্পনা ইউক্রেনের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে।
একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের আলোচনা ফলপ্রসূ ও অর্থবহ হয়েছে। টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তায় উভয় পক্ষ একমত। ইউক্রেনের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করতে তারা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
মার্কো রুবিও বলেন, “ট্রাম্পের ২৮-দফা পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাটোর ভূমিকা সম্পর্কিত সংশোধনও রয়েছে, যা দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমাতে সহায়ক। যেসব বিষয় এখনো ঝুলে আছে, সেগুলো বাধা নয়। আরও কিছু সময় দরকার, কিন্তু আমি আশাবাদী যে আমরা সফল হবো।” তিনি বিস্তারিত না জানালেও বলেন, পরিকল্পনা ‘জীবন্ত নথি’ এবং আলোচনার সঙ্গে পরিবর্তিত হবে। চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত মস্কোর অনুমোদনের জন্যও উপস্থাপন করতে হবে।
ট্রাম্পের প্রস্তাব ফাঁস হওয়ার পর ইউক্রেন ও ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড (ক্রিমিয়া, লুহানস্ক, দোনেৎস্ক) ছেড়ে দেওয়া, সামরিক বাহিনী সীমিত করা এবং ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার মতো রাশিয়ার দাবির প্রতিফলন ছিল। এটিকে ‘অ্যাবসার্ড’ বলে ইউক্রেনীয় রাজনীতিবিদরা সমালোচনা করেন।
জেলেনস্কি গত সপ্তাহে বলেন, “পরিকল্পনা ইউক্রেনকে মর্যাদা হারানো বা মূল অংশীদার হারানোর দ্বিধায় ফেলেছে।” ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উর্সুলা ফন ডার লাইয়েন বলেন, “কোনো শান্তি পরিকল্পনা ইউক্রেনের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে।”
ট্রাম্প গতকাল ইউক্রেনকে ‘জিরো গ্র্যাটিটিউড’ দেখানোর অভিযোগ করেন। জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান।
আরও পড়ুন: রাশিয়ান আগ্রাসন থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় প্রস্তুত জেলেনস্কি
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত শুক্রবার বলেন, “ট্রাম্পের পরিকল্পনা চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির ভিত্তি হতে পারে। তবে কিয়েভ আলোচনা না করলে রাশিয়া আরও ভেতরে অগ্রসর হবে।” আলোচনায় অসাধারণ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করলেও রুবিও ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে কিছু বলেননি। ট্রাম্পের সময়সীমা থ্যাঙ্কসগিভিং (২৮ নভেম্বর)। ইউরোপীয় নেতারা বলছেন, ইউক্রেনের স্বাধীন সিদ্ধান্তকে সম্মান করতে হবে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































