যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-newsedge24

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার টার্গেট তালিকা নিয়ে ইউএএনআই (United Against Nuclear Iran) নামক ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা যে নথি প্রকাশ করেছে, তা মূলত তেহরানকেন্দ্রিক এবং আইআরজিসি (Islamic Revolutionary Guard Corps)-এর অভ্যন্তরীণ দমনযন্ত্রের ওপর ফোকাস করা। এই তালিকায় কমপক্ষে ৫০টি সুনির্দিষ্ট সামরিক ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত স্থাপনার উল্লেখ রয়েছে।

নথির প্রধান ফোকাস তেহরানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া, যাতে বিক্ষোভ দমনের ক্ষমতা দুর্বল হয়। নিচে বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলো (ইউএএনআই নথি ও ডেইলি মেইল প্রতিবেদনের ভিত্তিতে):

থারাল্লাহ সদর দপ্তর (Thar-Allah Headquarters)

  • অবস্থান: তেহরানের কেন্দ্রস্থলে (সুনির্দিষ্ট কো-অর্ডিনেটসহ উল্লেখ আছে)
  • বর্ণনা: আইআরজিসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দমনযন্ত্রের স্নায়ুকেন্দ্র। এখান থেকে পুলিশ ও বাসিজ বাহিনীর ওপর অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়। বিক্ষোভ দমনের প্রধান কমান্ড সেন্টার।

তেহরানের চারটি প্রধান উপ-সদর দপ্তর (Sub-Districts)

  • কুদস উপসদর দপ্তর → উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম তেহরানের দমন অভিযান পরিচালনা করে।
  • ফতেহ উপসদর দপ্তর → দক্ষিণ-পশ্চিম তেহরান নিয়ন্ত্রণ করে।
  • নাসর উপসদর দপ্তর → উত্তর-পূর্ব তেহরানের দায়িত্বে।
  • ঘাদর উপসদর দপ্তর → দক্ষিণ-পূর্ব ও কেন্দ্রীয় তেহরানের নিয়ন্ত্রণ করে।

তেহরানের ২২টি পৌর অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ২৩টি আইআরজিসি-বাসিজ আঞ্চলিক ঘাঁটি

  • এগুলো স্থানীয় পর্যায়ে বিক্ষোভ দমন, গ্রেপ্তার, নজরদারি ও মনস্তাত্ত্বিক অভিযান পরিচালনা করে।

দুটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিগেড (রক্তক্ষয়ী অভিযানের নেতৃত্বদানকারী)

  • আলে-ই মোহাম্মদ সিকিউরিটি ব্রিগেড → উত্তর-পূর্ব তেহরানে দমন অভিযানের দায়িত্বে।
  • আল-জাহরা সিকিউরিটি ব্রিগেড → দক্ষিণ-পূর্ব তেহরানে অভিযান পরিচালনা করে।

গোপন কমান্ড অবকাঠামো (Secret Command Infrastructure)

  • তেহরানজুড়ে ছড়িয়ে থাকা গোপন স্থাপনা, যা আইআরজিসির সবচেয়ে উগ্র ইউনিটগুলোর গোয়েন্দা, পুলিশি ও মনস্তাত্ত্বিক অভিযান সমন্বয় করে।

ইউএএনআই দাবি করছে, এই তালিকা ও সুনির্দিষ্ট কো-অর্ডিনেটসহ নথি হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠকের আগেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসির দমনযন্ত্রের একটি ব্লুপ্রিন্ট হাতে পেয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

  • হোয়াইট হাউস এই নথি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
  • ইরান সরকারও এখন পর্যন্ত এই তালিকা বা অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
  • আন্তর্জাতিক মহলে এই নথিকে “টার্গেট লিস্ট” হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে ২৫% শুল্ক আরোপ

এই তথ্যগুলো ইউএএনআই-এর প্রকাশিত নথি ও ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংকলিত। বর্তমানে এটি কেবলমাত্র প্রস্তাবিত/পরিকল্পিত টার্গেট তালিকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *