পররাষ্ট্রমন্ত্রী-আব্বাস আরাঘচি-ইসলামাবাদ-newsedge24

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদ পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো প্রস্তাবগুলোর আনুষ্ঠানিক জবাব তিনি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে। একই সময়ে অঞ্চলজুড়ে কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর আরাঘচিকে স্বাগত জানান দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস আসিম মুনির। সফরকালে তিনি পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করবেন, যেখানে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হবে।

এ সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও নৌ অবরোধ, পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কোনো নির্ধারিত সূচি এখনো নেই।

তেহরান থেকে যাত্রার আগে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, তার এই সফরের উদ্দেশ্য দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলোতে অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পরামর্শ করা। পাকিস্তান সূত্র জানায়, তেহরানের চূড়ান্ত অবস্থান তুলে ধরাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার ইসলামাবাদ সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য আলোচনায় অংশ নিতে তারা সেখানে যাবেন। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আপাতত এই সফরে থাকছেন না।

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের শর্ত—বিশেষ করে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার—পূরণ না হলে সরাসরি আলোচনায় বসবে না। একইসঙ্গে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ-এর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফা সরাসরি আলোচনা ২০ ঘণ্টার বেশি সময় চললেও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর থেকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

সব মিলিয়ে, বাড়তে থাকা কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি আলোচনা আদৌ হবে কি না—তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *