গরু-মহিষ-khamar-newsedge24

পশ্চিমবঙ্গে এবার ঈদুল আজহায় গরু-মহিষ জবাই না করার বার্তা দিয়েছেন মুসলিম নেতারা। সরকারের নতুন কঠোর নির্দেশিকা ও পরিকাঠামোর অভাবকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেছেন, অযথা হয়রানি এড়াতে এবার গরু কোরবানি পরিহার করা উচিত।

কলকাতা হাইকোর্ট সম্প্রতি পশু জবাই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বহাল রেখেছেন। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, জবাইয়ের জন্য সনদ বাধ্যতামূলক, প্রকাশ্যে জবাই নিষিদ্ধ, ১৪ বছরের কম বয়সী পশু জবাই করা যাবে না এবং স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ দফতরের অনুমতি লাগবে।

নাখোদা মসজিদের ইমাম মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসমি বলেন, “পর্যাপ্ত কসাইখানা ও পশু চিকিৎসার সুবিধা না থাকায় এই নিয়ম কোরবানিকে অত্যন্ত কষ্টসাধ্য করে তুলেছে।” ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা তোহা সিদ্দিকীও গরু না কেনার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এবার ছাগলসহ অন্যান্য পশু দিয়ে কোরবানি করা উচিত।

এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকে গবাদি পশু কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। যারা আগে কিনেছেন, তারা খামারিদের কাছে টাকা ফেরত চাইছেন।

তবে আম জনতা পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবির ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজন নেতা এই নিয়মকে ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। হুমায়ুন কবির বলেন, “১৪০০ বছরের ঐতিহ্য কেউ বন্ধ করতে পারবে না।”

এদিকে সরকারের এই নির্দেশিকার কারণে খামারি, কসাই, চামড়া ব্যবসায়ীসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক খামারি জানিয়েছেন, কোরবানির গরু বিক্রি না হলে তারা নতুন করে গরু পালনে আগ্রহ হারাবেন, যা ভবিষ্যতে দুধের সংকটও তৈরি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *