US State department

ভারত-অধিকৃত কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে গত মঙ্গলবার পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই হামলায় ২৬ জন নিহত এবং ১৭ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে এ অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সবচেয়ে মারাত্মক হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই ঘটনা গুরুত্ব পেয়েছে। মুখপাত্র ট্যামি ব্রুসের কাছে সাংবাদিকরা ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।

ব্রিফিংয়ের শুরুতে ট্যামি ব্রুস পহেলগাঁও হামলার বিষয়ে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্টভাবে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পাশে রয়েছে এবং সন্ত্রাসবাদের সকল কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানায়। আমরা নিহতদের আত্মার শান্তি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। আমরা এই নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছি।” তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ফোন করে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের বিচারে ভারতের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।

একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ভারত হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে দাবি করছে যে হামলাকারীদের পেছনে পাকিস্তানের ভূমিকা রয়েছে। এই উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে কিনা এবং পাকিস্তানের জড়িত থাকার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতামত কী? ট্যামি ব্রুস জবাবে বলেন, “এটি একটি দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং আমরা তা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তবে এই মুহূর্তে জম্মু ও কাশ্মীরে স্থিতিশীলতা নিয়ে আমরা কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান জানাচ্ছি না।” তিনি পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান।

একজন পাকিস্তানি সাংবাদিক উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বর্তমান উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে ব্রুস বলেন, “আমি এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করব না। প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।” তিনি কাশ্মীরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আরও আলোচনা থেকে বিরত থাকেন।

হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ), যাকে ভারত পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শাখা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভারতের দাবি, হামলায় পাকিস্তানের সমর্থন রয়েছে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ভারত এখনো পাকিস্তানের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ দেয়নি।

হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ভারত ১৯৬০ সালের ইন্ডাস জলচুক্তি স্থগিত, সীমান্ত বন্ধ এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। জবাবে পাকিস্তান ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ, ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা বাতিল এবং জলচুক্তি স্থগিতের ভারতীয় পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধের কারণ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সতর্ক অবস্থান ইঙ্গিত দেয়, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের পাশে থাকলেও দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিস্থিতিতে সরাসরি মধ্যস্থতা বা পক্ষপাতমূলক অবস্থান থেকে বিরত রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে তা আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *