যুক্তরাষ্ট্র-ডোনাল্ড ট্রাম্প-newsedge24

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ঘোষণা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে এবং রাশিয়ার উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তিনি আবারও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প জানান, এই অস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে যখন তিনি সোমবার রাশিয়া নিয়ে একটি “গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি” দেওয়ার কথা বলেছেন। এই ঘোষণা সোমবারের কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে আসতে পারে, যখন মার্কিন বিশেষ দূত ইউক্রেনে সর্বশেষ সফর শুরু করবেন এবং ট্রাম্প ওয়াশিংটনে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ এই গ্রীষ্মে আরও তীব্র হয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে শান্তি আলোচনা এখনও কোনো ফল দেয়নি। ট্রাম্প বলেন, “ইউক্রেনের জরুরি প্রয়োজন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র। আমরা তাদের কিছু সরবরাহ করব, কারণ তাদের প্রতিরক্ষার প্রয়োজ ন।” তবে তিনি ঠিক কতগুলো ক্ষেপণাস্ত্র পাঠানো হবে, তা নির্দিষ্ট করেননি।

নিউ জার্সিতে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফেরার পথে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা এখনও সংখ্যা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি, তবে তারা প্রতিরক্ষার জন্য কিছু পাবে।”

যুক্তরাষ্ট্র এ মাসের শুরুতে ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহে সাময়িক বিরতির ঘোষণার পর নীতি পরিবর্তন করেছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী, ন্যাটো যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো অস্ত্রের খরচ বহন করবে। ট্রাম্প বলেন, “আমরা তাদের বিভিন্ন অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম পাঠাব, এবং তারা এর জন্য ১০০ শতাংশ খরচ দেবে। এটা আমাদের জন্য ব্যবসা হবে।” ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এর আগে বলেছিলেন, তারা নতুন প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য একটি বহু-স্তরীয় চুক্তির কাছাকাছি রয়েছে।

ট্রাম্প পুতিনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পুতিন অনেককে অবাক করেছেন। তিনি সুন্দর কথা বলেন, কিন্তু রাতে সবাইকে বোমা মারেন।” জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফিরে এসে তিনি প্রথমে পুতিনের সঙ্গে কাজ করে যুদ্ধ শেষ করার কথা বললেও, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি মানেনি।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প আরও ৭ টি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন

ট্রাম্প সম্প্রতি পুতিনের প্রতি বারবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং রবিবার বলেন, তিনি কংগ্রেসে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজের মাধ্যমে রাশিয়ার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য প্রস্তুত হতে পারেন। নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, “আগামীকাল আমরা কী করব, তা দেখব, ঠিক আছে?”

মার্কিন সিনেটররা একটি দ্বিদলীয় বিলের প্রস্তাব করেছেন, যা ট্রাম্পকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা দেবে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সিবিএস নিউজকে বলেন, এই বিল ট্রাম্পকে “পুতিনের অর্থনীতি এবং যারা পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রকে সমর্থন করে তাদের বিরুদ্ধে যাওয়ার সুযোগ দেবে”। তিনি বলেন, এটি রাশিয়ার পণ্য ক্রয়কারী চীন, ভারত বা ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে।

গ্রাহাম বলেন, “এটি ট্রাম্পের জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যা দিয়ে তিনি এই যুদ্ধ শেষ করতে পারেন।” জেলেনস্কি এই বিল নিয়ে এক্স-এ বলেন, “এটি শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার এবং কূটনীতিকে অর্থবহ করার জন্য সঠিক হাতিয়ার।” গ্রাহাম এবং ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল সোমবার রাতে ন্যাটোর মহাসচিব রুটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ব্লুমেন্থাল বলেন, তারা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে জব্দকৃত রাশিয়ার সম্পদ ইউক্রেনের জন্য ব্যবহারের জটিল আইনি বিষয় নিয়েও আলোচনা করবেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদও ব্যবহার করা যেতে পারে, এবং এখনই সেই সময়।”

তথ্য সুত্রঃ এনডি টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *