ডোনাল্ড ট্রাম্প-নরেন্দ্র মোদি-newsedge24

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারকে নিয়ে আবারও তীব্র কটাক্ষ করেছেন। জাপানে ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে এক ডিনারে বক্তৃতায় তিনি বলেন, মে মাসের পাকিস্তানের সাথে সংঘর্ষে ভারতের সাতটি নতুন যুদ্ধবিমান গুলি করে ফেলা হয়েছে, যা মোদি সরকারের জন্য “একটি বড় লজ্জাজনক পরাজয়”। ট্রাম্প দাবি করেন, তার ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ না হলে এই সংঘর্ষ পারমাণবিক যুদ্ধে রূপ নিত।

ট্রাম্প বলেন, “যদি আপনি ভারত ও পাকিস্তানের দিকে তাকান, তারা তখন যুদ্ধের মুখে ছিল। সাতটা একদম নতুন, দারুণ সুন্দর বিমান গুলি করে নামানো হয়। আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদিকে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী (শেহবাজ শরিফ)—খুবই ভদ্র, ভালো মানুষ—এবং ফিল্ড মার্শাল (অসিম মুনির)—তাকেও বলেছিলাম, ‘দেখো, তোমরা যদি যুদ্ধ করো, তাহলে কোনো বাণিজ্য হবে না।’” তিনি যোগ করেন, “আমি বলেছিলাম, ‘যদি লড়াই করো, তাহলে আমরা কোনো চুক্তি করব না।’ আর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধ থেমে গেল। অবিশ্বাস্য ছিল এটা। আমি মনে করি, বাণিজ্যই ৭০ শতাংশ কারণ যে কারণে যুদ্ধ হয়নি।”

২২ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে দীপাবলি উদযাপনের সময় ট্রাম্প বলেন, তিনি মোদিকে বলেছিলেন যেন পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ না হয়। তিনি দাবি করেন, কূটনীতি ও বাণিজ্যিক চাপের মাধ্যমে তিনি বহু সংঘর্ষ ঠেকাতে পেরেছেন। “আমরা কিছুক্ষণ আগেই কথা বলেছি—চল, পাকিস্তানের সাথে কোনো যুদ্ধ না করি। বাণিজ্য জড়িত ছিল বলেই আমি সেটা নিয়ে কথা বলতে পেরেছিলাম।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আর এখন পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কোনো যুদ্ধ নেই। এটা খুবই ভালো ব্যাপার।” এরপর মোদিকে প্রশংসা করে বলেন, “তিনি দারুণ একজন মানুষ এবং বছরের পর বছর ধরে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠেছেন।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তিনি এ পর্যন্ত আটটি যুদ্ধ ঠেকিয়েছেন, যা সম্ভব হয়েছে তার “চুক্তি ও বাণিজ্য কৌশলের” মাধ্যমে। এর মধ্যে পাকিস্তান-ভারত সংঘর্ষও রয়েছে। ট্রাম্প আগেও বহুবার দাবি করেছেন যে, তিনি এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রেখেছেন।

আরও পড়ুন: নোবেল পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পকে মনোনয়ন দেবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

নরেন্দ্র মোদি ট্রাম্পের এই দাবিকে অস্বীকার করেছেন। জুলাই মাসে লোকসভায় তিনি বলেন, “কোনো বিশ্ব নেতা ভারতকে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বলেননি।” ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীও জানিয়েছেন, অভিযান রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পর বন্ধ হয়েছে, কোনো বহিরাগত মধ্যস্থতায় নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *