যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় নয় এমন ১৯টি দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়াকরণসহ সব ধরনের অভিবাসন আবেদন স্থগিত করেছে। জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার উদ্বেগ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, এই নিষেধাজ্ঞা জুন মাসে আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া দেশগুলোর মানুষের জন্য প্রযোজ্য, যা ট্রাম্পের অভিবাসন-বিরোধী নীতির মূল বৈশিষ্ট্য।
‘মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা’ (ইউএসসিআইএস) বিভাগের পরিচালক জোসেফ এডলো শুক্রবার এক্সে পোস্ট করে বলেন, “প্রত্যেক বিদেশি নাগরিককে সর্বোচ্চ পর্যায়ে যাচাই-বাছাই না করা যাওয়া পর্যন্ত আশ্রয় আবেদনের সব সিদ্ধান্ত স্থগিত থাকবে।” এই স্থগিতাদেশে শপথ অনুষ্ঠান, নাগরিকত্ব সাক্ষাৎকার ও স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট সাক্ষাৎকার বাতিল হয়েছে।
তালিকাভুক্ত ১৯টি দেশ
- পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার দেশ: আফগানিস্তান, মিয়ানমার (বার্মা), চাদ, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন।
- আংশিক নিষেধাজ্ঞার দেশ: বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান, ভেনেজুয়েলা।
সিদ্ধান্তের পেছনে ওয়াশিংটন ডিসিতে গত সপ্তাহে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করার ঘটনা। আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকানওয়ালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতে একজন (স্পেশালিস্ট সারাহ বেকস্ট্রম, ২০) নিহত এবং অ্যান্ড্রু উলফ (২৪) গুরুতর আহত হন। লাকানওয়াল ২০২১ সালে বাইডেন যুগে অপারেশন অ্যালাইজ ওয়েলকামের মাধ্যমে আসেন এবং ২০২৫-এর এপ্রিলে ট্রাম্প যুগে আশ্রয় পান। তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যা ও অস্ত্রসহ হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, এটি “তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর অভিবাসন বন্ধ করার” যুক্তি। জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফিরে তিনি অভিবাসন প্রয়োগকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন—বড় শহরে ফেডারেল এজেন্ট পাঠানো, মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থী প্রত্যাখ্যান করা। আইনি অভিবাসন পুনর্গঠনের ওপর কম ফোকাস থাকলেও এবার জাতীয় নিরাপত্তা ও বাইডেন যুগের নীতির দোষারোপ করে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আশ্রয় আবেদনের নিষ্পত্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত
আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ডিরেক্টর শারভারি দালাল-ঢেইনি বলেন, সংস্থাটি শপথ অনুষ্ঠান, নাগরিকত্ব সাক্ষাৎকার ও স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট সাক্ষাৎকার বাতিলের খবর পেয়েছে। আইনবিদরা বলছেন, এই স্থগিতাদেশ আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































