গাজায় অক্টোবর থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন না বন্ধ করলে পরবর্তী ধাপে (যেমন গাজার শাসনকাঠামো, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন ও শান্তি পরিষদ গঠন) এগোনো সম্ভব নয় বলে হামাস সতর্ক করেছে। গাজা কর্তৃপক্ষের দাবি, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ৭৩৮ বার চুক্তি ভঙ্গ করেছে।
হামাসের কর্মকর্তা হুসাম বাদরান মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে (যেমন যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার, তুরস্ক) ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েল যখন চুক্তি ভঙ্গ করছে এবং নিজের প্রতিশ্রুতি মানছে না, তখন পরবর্তী ধাপ শুরু হতে পারে না। হামাস মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধ করেছে যাতে তারা ইসরায়েলের ওপর চাপ দেয়, যাতে প্রথম ধাপের সব শর্ত সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।”
যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। চুক্তির মূল শর্তগুলো ছিল গাজায় বন্দি ইসরায়েলিদের মুক্তি বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি। ইসরায়েলি সেনা গাজা থেকে আংশিক প্রত্যাহার।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির মাঝেই গাজায় ইসরায়েলি হামলা: নিহত অন্তত ২৮
কিন্তু গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় ৩৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং ৯৮৭ আহত। ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাসের আক্রমণ (যেমন রাফাহে দুই সেনা নিহত) চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া।
দ্বিতীয় ধাপের বাধা
চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে গাজার শাসনকাঠামো, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন ও শান্তি পরিষদ গঠনের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। হামাস বলছে, ইসরায়েলের লঙ্ঘন (যেমন রাফাহে হামলায় ৪৫ নিহত) প্রথম ধাপই সম্পূর্ণ করেনি। অপরপক্ষে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োব গ্যালান্ট বলেছেন, “হামাসের লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় আমরা আঘাত হানব।” কিন্তু মধ্যস্থতাকারীরা (যেমন মিশর, কাতার) ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “চুক্তি লঙ্ঘন গাজার পুনর্গঠনকে বাধাগ্রস্ত করছে।” যুক্তরাষ্ট্র বলছে, “হামাসের লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া ইসরায়েলের অধিকার।” কিন্তু মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকেই সংযমের আহ্বান জানিয়েছে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































