এপস্টেইন ফাইল-newsedge4

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) জেফ্রি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথির একটি ছবি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়ার পর পুনরায় প্রকাশ করেছে। ওই ছবিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুটি ছবি দেখা যায়। এপস্টেইনের বাসভবনের একটি ডেস্ক বা ক্রেডেনজায় রাখা ছবির মধ্যে একটিতে ট্রাম্পকে কয়েকজন নারীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অন্যটিতে ট্রাম্প তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প, জেফ্রি এপস্টেইন ও গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে একসঙ্গে আছেন।

ডিওজে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এপস্টেইনের হাজার হাজার নথি প্রকাশ করে, যা এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের অধীনে বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু শনিবার (২০ ডিসেম্বর) পর্যন্ত অন্তত ১৬টি ফাইল ওয়েবসাইট থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। এর মধ্যে ট্রাম্পের ছবি-সংবলিত ফাইলটি (ফাইল ৪৬৮) ছিল। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাটরা প্রশ্ন তোলেন, “এটি কি সত্য? আর কী কী ঢাকা হচ্ছে? জনগণের স্বার্থে স্বচ্ছতা চাই।”

ডিওজে রোববার (২১ ডিসেম্বর) এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানায়, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অফিস ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার জন্য ছবিটি চিহ্নিত করে। সতর্কতামূলকভাবে ছবিটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। পর্যালোচনায় দেখা যায়, ছবিতে এপস্টেইনের কোনো ভুক্তভোগী নেই। ফলে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই ছবিটি পুনরায় প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যান্য সরানো ফাইলগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই এপস্টেইনের বাসভবনের স্পষ্ট শিল্পকর্ম, চিঠিভর্তি ডাকস্লটের ছবি, টাইলস-সজ্জিত করিডর এবং নাম-অ্যাপার্টমেন্ট নম্বরসহ নোটবুকের পৃষ্ঠা ছিল। ডিওজে জানায়, ভুক্তভোগীদের পরিচয় রক্ষায় এসব সরানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা হয়। ম্যারিল্যান্ডের কংগ্রেসম্যান জেমি রাসকিন সিএনএন-এ বলেন, “এটি সবই ঢাকার চেষ্টা। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের বা তার পরিবার-বন্ধুদের সম্পর্কে কিছু প্রকাশ্যে আনতে চান না।” তিনি এটিকে “কভার-আপ” বলে অভিহিত করেন।

ডিওজের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কিত ছবি সরানোর কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। ট্রাম্প ও এপস্টেইনের পুরনো ছবি আগেই প্রকাশ্যে আছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

আরও পড়ুন: এপস্টেইন ফাইল কেন রহস্য ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু্তে

এপস্টেইনের নথি প্রকাশে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা চলছে। আইন অনুযায়ী ১৯ ডিসেম্বরের মধ্যে সব নথি প্রকাশ করার কথা থাকলেও এখনও অনেক অংশ অপ্রকাশিত। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টমাস ম্যাসি বলেন, এটি আইনের চেতনা ও অক্ষরের বিরুদ্ধে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *