ইরান-ইসরায়েল-newsedge24

ইসরাইলের অভ্যন্তরীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ইরানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিনির্ভরশীলতা এবং নিজস্ব ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত সংকট তাদের শঙ্কিত করেছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ১২ দিনের ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে এই উদ্বেগ আরও প্রকট হয়েছে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম The Times of Israel-এর প্রতিবেদনের বরাতে Middle East Monitor জানায়, ইরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির মোকাবিলায় ইসরাইল আগের চেয়ে অনেক বেশি অপ্রস্তুত। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গত বছরের জুনের সংঘাতের তুলনায় বহুগুণ শক্তিশালী ও আধুনিক। তেহরান গত কয়েক বছরে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার দ্রুত পুনরুদ্ধার ও আধুনিকায়ন করেছে।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টরের তীব্র সংকট রয়েছে। ইসরাইল ও তার প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই এই ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ধীরগতির সম্মুখীন। জুনের যুদ্ধে ইসরাইলের ইন্টারসেপ্টর স্টকের বড় অংশ ব্যবহার হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের THAAD ও অন্যান্য সিস্টেমও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

আরও পড়ুন: তাইওয়ান ঘিরে চীনের সামরিক মহড়া: উত্তেজনা বৃদ্ধি

ইসরাইলি নিরাপত্তা মহলের একটি বড় অংশ মনে করছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অধিক নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে হিতে বিপরীত হতে পারে। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং ইন্টারসেপ্টরের স্বল্পতা পরবর্তী যুদ্ধের ধরণ আমূল বদলে দিতে পারে—যেখানে ইরানের আঘাত হানার সক্ষমতা ইসরাইলের প্রতিরক্ষার চেয়ে বেশি কার্যকর প্রমাণিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *