পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত নাটকীয়ভাবে বেড়ে গিয়ে ‘উন্মুক্ত যুদ্ধ’-এ রূপ নিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে বলেছেন, “আমাদের ধৈর্যের সীমা শেষ। এখন এটি উন্মুক্ত যুদ্ধ। এখন হবে চূড়ান্ত পদক্ষেপ।” পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা আফগানিস্তানের ভেতরে কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে, যাতে ১৩০-এর বেশি তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
অন্যদিকে তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, আফগানিস্তান ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে “বৃহৎ আকারের আক্রমণাত্মক অভিযান” চালাচ্ছে। তালেবানের দাবি, এটি পাকিস্তানের সপ্তাহের শুরুর দিকের বিমান হামলার জবাব। তারা আরও দাবি করেছে, চার ঘণ্টার অভিযানে ৫৫ পাকিস্তানি সেনা নিহত, দুটি বেস ও ১৯টি পোস্ট দখল করা হয়েছে।
কাবুলে রাতভর বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে, যা পাকিস্তানি হামলার ফল বলে আফগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ডুরান্ড লাইন (২,৬১১ কিমি দীর্ঘ সীমান্ত) বরাবর তীব্র লড়াই চলছে, যা দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অস্বীকৃতি ও তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সংক্রান্ত অভিযোগের জের।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
- জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস: পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সহিংসতা বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজাররিকের বিবৃতিতে দুই দেশকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
- ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত। তিনি দুই দেশকে সংলাপ ও সুপ্রতিবেশী নীতির ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। এক্স-এ পোস্টে রমজান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে আত্মসংযম ও ইসলামী সংহতির কথা বলেছেন। ইরান কাবুল-ইসলামাবাদের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
- রাশিয়া: আরআইএ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, মস্কো উভয় পক্ষকে সীমান্ত-পারাপার হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। সম্মত হলে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছে।
- পাকিস্তানের অবস্থান: প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবানকে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করে বলেছেন, ইসলামাবাদ সরাসরি ও বন্ধুপ্রতিম দেশের মাধ্যমে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। তবে এখন “আগ্রাসনের লক্ষ্যবস্তু” হওয়ায় সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ় জবাব দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে নজিরবিহীন মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি
এই সংঘাত অক্টোবরে কাতার-মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা ভেঙে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































