ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আজ রবিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বোমাবর্ষণের পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে এটি ছিল তেহরানের পক্ষ থেকে ষষ্ঠ দফার হামলা।
আইআরজিসি জানিয়েছে, এই অভিযানে ইসরায়েলের তেল নোফ বিমানঘাঁটি, তেল আভিভের ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান সদর দপ্তর হাকিরিয়া এবং একই শহরের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সসহ মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ মিসাইল এবং শতাধিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনী এই হামলাকে “শুধু শুরু” হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তারা বলেছে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর, ভিন্নধর্মী এবং একের পর এক শোচনীয় প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইআরজিসি’র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শত্রুরা যতদিন পর্যন্ত আগ্রাসন চালাবে, ততদিন আমাদের প্রতিশোধ থামবে না।”
হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। কাতারের আল-উদেইদ, কুয়েতের আল-সালেম, আমিরাতের আল-ধাফরা, বাহরাইনের পঞ্চম নৌবহর সদরদপ্তর এবং সৌদি আরবের রিয়াদে বিকট বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এসব দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং আকাশপথে চলাচল পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরান ইসরাইলের দিকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও এই হামলার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে ইসরায়েলের আকাশপ্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আয়রন ডোম, অ্যারো) সক্রিয় রয়েছে এবং দেশটিতে জরুরি অবস্থা অব্যাহত আছে।
এই সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































