ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৭০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। নিহতদের অধিকাংশই ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থী এবং নারী। বুধবার (১১ মার্চ) ইতালির সিনেটে ভাষণে তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে ‘অমানবিক’ ও ‘যুদ্ধাপরাধের সীমান্তে’ অবস্থানকারী বলে উল্লেখ করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মেলোনি বলেন, “দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের স্কুলে নারী ও শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ঘটনার দায় কার, তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে নির্ণয় করা অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যুদ্ধক্ষেত্র বানানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান যাতে এই ঘটনার স্বাধীন তদন্ত হয় এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হয়।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথ হামলার প্রথম দিনেই মিনাব শহরের ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার সময় স্কুলে ক্লাস চলছিল এবং বেশিরভাগ শিক্ষার্থী মেয়ে। নিহতদের মধ্যে ১৪০ জনেরও বেশি শিশু এবং বাকিরা শিক্ষক ও অভিভাবক। আহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে বলে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান কাতারের
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনও এই নির্দিষ্ট হামলার দায় স্বীকার করেনি বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সামরিক অভিযানে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু এড়ানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।” ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে ‘স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































