মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা আরও একধাপ বেড়েছে। ইসরায়েলের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে ইরানের মিসাইল আঘাত হেনেছে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দুই প্রধান শহরে। দিমোনা ও আরাদে সৃষ্ট এ হামলার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক জরুরি ভাষণে এটিকে ‘অত্যন্ত কঠিন এক সন্ধ্যা’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমি অঞ্চলে শুরু হয় বিস্ফোরণের শব্দ। ইরানের ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের দুই শহর দিমোনা ও আরাদে আঘাত হানে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিমোনা শহরের গুরুত্ব অপরিসীম—সেখানেই অবস্থিত ইসরায়েলের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র। যদিও হামলার পরপরই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, পরমাণু স্থাপনায় কোনো আঘাত আসেনি এবং সেখানে সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে এই হামলার সবচেয়ে বড় দিকটি হলো, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েলের বহুচর্চিত আয়রন ডোম ও অ্যারো ডিফেন্স সিস্টেম। দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ‘অভেদ্য’ বলে প্রচার করে আসছিল, এই হামলা তার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন। ইরানের পক্ষ থেকে এখনও এ হামলার আনুষ্ঠানিক দায়িত্বস্বীকার করা হয়নি, তবে তেহরানের নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে এটি ইসরায়েলের সাম্প্রতিক উস্কানির জবাব।
হামলার পরপরই মাঠে নামেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি সরেজমিনে দক্ষিণ ইসরায়েলের শহর আরাদে হামলার স্থান পরিদর্শন করেন। সেখানে দাঁড়িয়ে দেওয়া এক ভাষণে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জোট গঠনের ডাক দেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি শুধু ইসরায়েলের যুদ্ধ নয়। এটা সভ্যতার যুদ্ধ। যারা বিশ্বে স্থিতিশীলতায় বিশ্বাস করে, তাদের সবাইকে এখন এগিয়ে আসতে হবে।’ তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার দিকে এগোচ্ছে।
এই ঘটনার পরপরই বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন এক বিবৃতিতে ইরানের এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য উস্কানি’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া ও চীন মধ্যপ্রাচ্যে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠকের আয়োজন করেছে।
ইরানের এই মিসাইল হামলা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্যও বড় ধরনের সংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েলের অভেদ্য প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ভাঙন এই অঞ্চলের সামরিক সমীকরণ পাল্টে দেওয়ার মতো ঘটনা। নেতানিয়াহুর আন্তর্জাতিক জোট গঠনের আহ্বান ইঙ্গিত দেয়, ইসরায়েল এককভাবে নয়, বহুপাক্ষিক সামরিক জোট গঠন করে ইরানকে মোকাবিলার কৌশল নিতে পারে।



































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































